ভাঙ্গায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকে বড় ধরনের ঋণ জালিয়াতি, ইউএনও বরাবর অভিযোগ
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৪:২০ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলায় পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের একটি শাখায় গ্রাহকদের ভূয়া ঋণ দেখিয়ে ও কিস্তির টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে বড় ধরনের আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীদের পক্ষে এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্ত সাবেক কর্মকর্তা ও পলাতক মাঠ সহকারীর বিরুদ্ধে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ভাঙ্গার 'একটি বাড়ি একটি খামার' প্রকল্পের কার্যক্রম পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের মাধ্যমে শুরু হওয়ার পর থেকেই এই অনিয়ম ডালপালা মেলতে শুরু করে। সাবেক শাখা ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেন এবং মাঠ সহকারী ফজলুল হক ওরফে রুবেল মাতুব্বরের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের নামে ভুয়া ঋণ ও কিস্তির অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেদের পকেটে তোলার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেছে। বর্তমানে অভিযুক্ত মনোয়ার হোসেন মাদারীপুরের শিবচরে কর্মরত থাকলেও রুবেল মাতুব্বর পলাতক রয়েছেন।
উপজেলার চুমুরদী ইউনিয়নের পূর্ব সদরদী গ্রামের ভুক্তভোগী হোসনেয়ারা বেগম জানান, তিনি কখনো ঋণের আবেদন না করলেও এবং এই প্রকল্পের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও তার নামে ৭০ হাজার টাকার ঋণ তোলা হয়েছে। এখন ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাকে এই টাকা পরিশোধের জন্য চাপ দিচ্ছে। স্থানীয় দলনেত্রী হাজেরা বেগমও নিশ্চিত করেছেন যে, হোসনেয়ারা তাদের দলের সদস্য ছিলেন না এবং কীভাবে তার নামে ঋণ মঞ্জুর করা হলো তা রহস্যজনক।
একই গ্রামের আরেক ভুক্তভোগী আলেয়া বেগম জানান, তিনি ঋণের ৮০ হাজার টাকা পরিশোধ করার পরও ব্যাংক থেকে জানানো হচ্ছে যে তার কাছে এখনও ৫০ হাজার টাকা বকেয়া রয়েছে। একইভাবে মমতাজ বেগম নামে আরেক গ্রাহক মাঠ সহকারী রুবেলের মাধ্যমে তার ৫০ হাজার টাকার পুরো ঋণ শোধ করলেও ব্যাংকের নথিতে তা বকেয়া হিসেবেই রয়ে গেছে।
এ বিষয়ে বর্তমান শাখা ব্যবস্থাপক সুশান্ত কুমার দাস জানান, হোসনেয়ারা বেগমের ঋণের নথির স্বাক্ষরের সাথে তার স্বাক্ষরের মিল পাওয়া গেছে। তবে কিস্তির টাকা পরিশোধের পরও কেন বকেয়া দেখাচ্ছে, সে বিষয়ে তিনি পূর্ববর্তী দায়িত্বপ্রাপ্তদের ওপর দায় চাপিয়ে এড়িয়ে যান। এদিকে অভিযুক্ত সাবেক ব্যবস্থাপক মনোয়ার হোসেনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।
ভাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, গ্রাহকদের জমা দেওয়া লিখিত অভিযোগ খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। জালিয়াতি ও গ্রাহকের অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেলে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে