সর্বশেষ

আন্তর্জাতিক

রাশিয়ার সঙ্গে ‘জ্বালানি যুদ্ধবিরতিতে’ প্রস্তুত ইউক্রেন: জেলেনস্কি

ডেস্ক রিপোর্ট
ডেস্ক রিপোর্ট

বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৫:২৪ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাশিয়া যদি ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, উত্তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করে, তাহলে রাশিয়ার জ্বালানি অবকাঠামোয় হামলা বন্ধে প্রস্তুত ইউক্রেন—এমন কথা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি এ কথা বলেন।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে প্রায় ৪০ মিনিট বৈঠক করেন তিনি। বৈঠকটিকে ‘ইতিবাচক ও ফলপ্রসূ’ হিসেবে বর্ণনা করে জেলেনস্কি জানান, শীত মৌসুম শুরুর আগেই যুদ্ধের অবসান ঘটাতে কূটনৈতিক পথ খোঁজা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

জেলেনস্কি বলেন, ইউক্রেন রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধ করতে প্রস্তুত, যদি মস্কো ইউক্রেনের বিদ্যুৎ, উত্তাপ ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় হামলা বন্ধ করে। তবে ইউক্রেন একতরফাভাবে রাশিয়ার জ্বালানি খাতে হামলা বন্ধ করবে—এমন কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।

রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার বিষয়েও তিনি আপত্তি জানান। জেলেনস্কির ভাষ্য, ইউক্রেনীয়রা যখন প্রতিনিয়ত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ঝুঁকিতে রয়েছে, তখন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের আলোচনা হতে পারে না।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প রাশিয়ার জ্বালানি স্থাপনায় ইউক্রেনীয় হামলার কারণে বিশ্ববাজারে ডিজেলের দামের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে ইউক্রেনের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধসহ যুদ্ধ অবসানের সম্ভাব্য পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

অন্যদিকে, রাশিয়ার পক্ষ থেকেও এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবকে স্বাগত জানানোর কথা জানা যায়। তবে মস্কো রাশিয়ার সমুদ্রপথে জ্বালানি রপ্তানি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলেছিল।

শীত মৌসুম সামনে রেখে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করতেও যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা চেয়েছেন জেলেনস্কি। তিনি নতুন করে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের প্রস্তাব দিয়েছেন। তাঁর প্রস্তাব অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের মজুত থেকে ইউক্রেনকে প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র দিলে পরবর্তীতে জার্মানির কাছ থেকে ইউক্রেনের পাওয়ার কথা থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের একটি অংশ যুক্তরাষ্ট্রকে ফেরত দেওয়া হতে পারে। জেলেনস্কির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৭ ও ২০২৮ সালে জার্মানির কাছ থেকে ৬০০টি প্যাট্রিয়ট পাওয়ার বিষয়ে ব্যবস্থা রয়েছে। ট্রাম্প প্রস্তাবটি প্রত্যাখ্যান করেননি, তবে এখনো চূড়ান্ত সম্মতিও দেননি।

এদিকে রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে গোয়েন্দা তথ্য পাওয়ার দাবি করেছেন জেলেনস্কি। সাম্প্রতিক সময়ে দুই পক্ষই দূরপাল্লার হামলা জোরদার করেছে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, ১৫ সেপ্টেম্বর রাশিয়া প্রায় ২০০টি ড্রোন দিয়ে ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে হামলা চালায়। অন্যদিকে ২০ সেপ্টেম্বর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারের অপরিশোধিত তেল প্রক্রিয়াকরণ কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় বলে শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে।

জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামও ট্রাম্পের সঙ্গে ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাত নিয়ে আলোচনা করেছেন। বৈঠকে তিনি দুই দেশের মধ্যে জ্বালানি যুদ্ধবিরতির বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ইউক্রেনের ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো পুনর্গঠনে আরও আর্থিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

১৫৮ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
আন্তর্জাতিক নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০