চারঘাটের আলোচিত ‘মাদক সম্রাট’ মুক্তা মেম্বারের সম্পদ তদন্তের দাবি
শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৩৩ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর চারঘাটের আলোচিত মাদক কারবারি ও একাধিক মামলার আসামি মো. মুক্তার হোসেন ওরফে মুক্তা মেম্বারের বিপুল সম্পদের উৎস অনুসন্ধানে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তার বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান, অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ উঠেছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করে তার এসব স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলার শলুয়া ইউনিয়নের চামটা গ্রামের বাসিন্দা মো. মুক্তার হোসেন ওরফে মুক্তা মেম্বারের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় একক আধিপত্য বিস্তার, মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা এবং অস্ত্র ব্যবসার অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এই মাদক কারবারির চক্রটি চারঘাট ও তার আশপাশের সীমান্ত এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মুক্তা মেম্বারের বিরুদ্ধে হত্যা, মাদক চোরাচালান ও অবৈধ অস্ত্র রাখার দায়ে বিভিন্ন থানায় প্রায় ১৬টি মামলা রয়েছে। অতীতে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ তাকে বিদেশি পিস্তল ও বিপুল পরিমাণ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার করলেও জামিনে এসে আবারও তিনি একই পেশায় যুক্ত হন বলে অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে প্রশাসনের নজর এড়িয়ে তিনি আড়ালে থেকে তার সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন।
অবৈধ ব্যবসার মাধ্যমে উপার্জিত অর্থ দিয়ে চারঘাট এলাকায় অন্তত ১০টি বিশাল পুকুরসহ কোটি কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন এই কথিত জনপ্রতিনিধি। তার পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধেও মাদক ব্যবসার সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই বিপুল পরিমাণ কালো টাকা সাদা করার প্রক্রিয়া এবং সম্পদের সঠিক উৎস জানতে মানিলন্ডারিং আইনে মামলার দাবি জোরালো হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় এক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতার ছত্রছায়ায় মুক্তা মেম্বার এলাকায় নিজের ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেন। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি নির্যাতনের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়, যেখানে অন্যতম প্রধান আসামি হিসেবে তার নাম উঠে আসে। মুক্তারপুর, ইউসুবপুরসহ পাশ্ববর্তী এলাকাগুলোতে তার বাহিনীর অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) এবং আর্থিক গোয়েন্দা সংস্থার (বিএফআইইউ) মাধ্যমে মুক্তা মেম্বারের অবৈধ সম্পদের উৎস অনুসন্ধানের জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। অভিযুক্তের বক্তব্য জানতে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি; তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা প্রকাশ করা হবে।
১৩১ বার পড়া হয়েছে