পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় খাসজমি কেলেঙ্কারি: আবু হাসনাতকে ‘লঘুদণ্ড’
মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই, ২০২৬ ২:০৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাসজমি জালিয়াতির মামলায় অবশেষে শাস্তি পেলেন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আবু হাসনাত মোহাম্মদ শহিদুল হক। তদন্তে দায়িত্ব অবহেলা ও অসদাচরণের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় তাঁর বিরুদ্ধে এক বছরের জন্য বেতন বৃদ্ধি স্থগিত রাখার লঘুদণ্ড প্রদান করেছে। ৭২ একর সরকারি খাসজমি অবৈধভাবে বন্দোবস্ত দেওয়ার এই ঘটনায় প্রশাসনের ভেতরে-বাইরে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, ২০২২ সালে কলাপাড়ায় কর্মরত থাকাকালীন সময়ে ৪২টি ভুয়া কবুলিয়তের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পত্তি প্রভাবশালীদের নামে লিখে দেওয়া হয়। তৎকালীন সময়ে অভিযুক্ত ইউএনও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে সহকারী কমিশনারের (ভূমি) দায়িত্বেও নিয়োজিত ছিলেন। সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ছাড়াই তিনি এসব ভুয়া নথিপত্রে স্বাক্ষর করেন, যার ফলে সরকারের প্রায় ৭১ দশমিক ৬৩ একর খাসজমি বেহাত হয়ে যায়।
এই বিশাল জমি জালিয়াতির ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর দেশজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ফেঁসে যাওয়ার ভয়ে তৎকালীন এই কর্মকর্তা নিজেই বাদী হয়ে সার্ভেয়ার মো. হুমায়ুন কবিরসহ অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি পরবর্তীতে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তাধীন এলাকায় চলে যায়।
সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী, বিষয়টিকে গুরুতর অসদাচরণ হিসেবে গণ্য করে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা দায়ের করা হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তার চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দেখা যায়, নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে অস্বাভাবিক সংখ্যক কবুলিয়ত তৈরি করা হয়েছিল এবং নথিপত্রে ব্যাপক কাটাকাটির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় অবশেষে গত ২৩ জুলাই তাঁর এই শাস্তি কার্যকর করার নির্দেশনা জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
১০৮ বার পড়া হয়েছে