সর্বশেষ

জাতীয়

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের প্রস্তুতি: আজই আসতে পারে ঘোষণা 

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:১৮ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছে। পারিবারিক সূত্রের দাবি, শুক্রবার বিকেলে তিনি পদত্যাগ করতে পারেন। তবে বিশেষ কোনো কারণে তা সম্ভব না হলে শনিবারও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে পারে। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সও একাধিক সূত্রের বরাতে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের সিদ্ধান্তের তথ্য প্রকাশ করেছে। যদিও এ বিষয়ে এখনো রাষ্ট্রপতি কার্যালয় বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়নি।
রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে দায়িত্ব ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তাঁর পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার বিকেলে তিনি পদত্যাগপত্র জমা দিতে পারেন। তবে প্রয়োজন হলে এক দিন পিছিয়ে শনিবারও পদত্যাগ কার্যকর হতে পারে।

আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সও একাধিক সূত্রের বরাতে জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি ইতোমধ্যে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অবহিত করেছেন। একটি সূত্রের দাবি, গত মঙ্গলবারই তিনি এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে জানান। তবে বিষয়টির সংবেদনশীলতার কারণে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো পরিচয় প্রকাশ করেনি। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সরকারি ঘোষণা দেওয়া হয়নি।

বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদের স্পিকারের উদ্দেশে পাঠিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ চিকিৎসার জন্য থাইল্যান্ডে অবস্থান করলেও নির্ধারিত সময়ের আগেই শুক্রবার দেশে ফেরার কথা রয়েছে।

সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ১২৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে।

বঙ্গভবনের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তারা অবগত। তবে পদত্যাগপত্র প্রস্তুত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। এদিকে তাঁর ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র জানিয়েছে, দায়িত্ব ছাড়ার পর তিনি ঢাকার গুলশানে নিজ বাসভবনে অবস্থান করবেন। পরে চিকিৎসা ও বিশ্রামের জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল পাঁচ বছরের জন্য রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। সে হিসাবে তাঁর মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। তবে স্বাস্থ্যগত কারণকে সামনে রেখে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা থাকলেও সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করা হয়নি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, সরকার রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগ করতে বলেনি। তবে তিনি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, তাহলে তা সম্পূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়াতেই হবে। এ বিষয়ে তিনি সবাইকে শুক্রবার পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন।

অন্যদিকে বিএনপির দলীয় সূত্র জানিয়েছে, নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়ে দলটি তাড়াহুড়া করবে না। কারণ সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য ৯০ দিনের সময়সীমা রয়েছে। এ সময়ের মধ্যে সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

গত বছরের রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন। বিশেষ করে শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্র নিয়ে দেওয়া তাঁর এক সাক্ষাৎকার দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের পক্ষ থেকে তাঁর পদত্যাগের দাবিও ওঠে। তবে সাংবিধানিক প্রক্রিয়া ছাড়া রাষ্ট্রপতিকে অপসারণ সম্ভব নয় বলে সে সময় বিশেষজ্ঞরা মত দেন।

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও সংশ্লিষ্ট মহলের নজর এখন বঙ্গভবন ও জাতীয় সংসদের পরবর্তী সাংবিধানিক পদক্ষেপের দিকে।

১৬৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন