দেশে টেকসই ভবন লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর পথে এইচবিআরআই-ডিইএসএইচ
সোমবার, ২০ জুলাই, ২০২৬ ১১:৫৭ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
টেকসই, সাশ্রয়ী ও জলবায়ু-সহনশীল ভবন নির্মাণে বাংলাদেশ জাতীয় পর্যায়ের একটি লেবেলিং ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে ঢাকায় আয়োজিত অংশীজন পরামর্শক কর্মশালায় সরকারি সংস্থা, জাতিসংঘের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান, আর্থিক খাত, শিক্ষাঙ্গন ও বেসরকারি খাতের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
বাংলাদেশে টেকসই ভবন নির্মাণকে উৎসাহিত করতে জাতীয় টেকসই ভবন লেবেলিং ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গৃহায়ন ও ভবন গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এইচবিআরআই) উদ্যোগে এইচবিআরআই-ডিইএসএইচ (পরিবেশ ও টেকসই আবাসস্থলের জন্য নকশা) বাস্তবায়ন নিয়ে ঢাকায় একটি অংশীজন পরামর্শক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের (এমওএইচপিডব্লিউ) অধীন এইচবিআরআই আয়োজিত এ কর্মশালায় সহযোগিতা করেছে জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি (ইউএন-হ্যাবিট্যাট), জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচি (ইউএনইপি) এবং জাতিসংঘ প্রকল্প সেবা কার্যালয় (ইউএনওপিএস)।
জার্মান ফেডারেল অর্থনৈতিক সহযোগিতা ও উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (বিএমজেড) অর্থায়নে ‘বাংলাদেশে টেকসই উপকরণের মাধ্যমে নির্মিত পরিবেশের রূপান্তর’ প্রকল্পের আওতায় কর্মশালাটি আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় এইচবিআরআই-ডিইএসএইচ এবং এর ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘দেশবোর্ড’ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্টরা জানান, এই উদ্যোগ দেশের ভবন খাতে জ্বালানি সাশ্রয়, পরিবেশ সুরক্ষা, নির্মাণ উপকরণের কার্যকর ব্যবহার এবং জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অধিবেশনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব ও চেয়ারম্যান মোস্ত. ফেরদৌসী বেগম, স্থাপত্য অধিদপ্তরের প্রধান স্থপতি আসিফুর রহমান ভূঁইয়া এবং এইচবিআরআইয়ের মহাপরিচালক ড. গিয়াসউদ্দিন হায়দার।
‘বাংলাদেশে টেকসই ভবন নির্মাণে অগ্রগতি: এইচবিআরআই-ডিইএসএইচ বাস্তবায়নের জন্য নীতি, প্রাতিষ্ঠানিক পথ এবং অর্থায়ন’ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) এবং ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের (ডিপিডিসি) প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আলোচনায় এই ব্যবস্থা বড় পরিসরে চালু করতে প্রয়োজনীয় নীতি সহায়তা, সরকারি-বেসরকারি সমন্বয়, অর্থায়ন কাঠামো এবং দক্ষতা উন্নয়নের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবন ও নির্মাণ খাত বর্তমানে বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণ ও প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারের অন্যতম বড় উৎস। ইউএনইপি ও গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর বিল্ডিংস অ্যান্ড কনস্ট্রাকশন (গ্লোবালএবিসি)-এর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের শক্তি-সম্পর্কিত কার্বন ডাইঅক্সাইড নিঃসরণের প্রায় ৩৭ শতাংশের সঙ্গে এ খাতের সম্পর্ক রয়েছে।
দ্রুত নগরায়ণের কারণে বাংলাদেশেও টেকসই আবাসন ব্যবস্থার প্রয়োজন বাড়ছে। আন্তর্জাতিক অর্থ করপোরেশনের (আইএফসি) তথ্য অনুযায়ী, গত দুই দশকে দেশের শহুরে জনসংখ্যা প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে এবং ২০৩৭ সালের মধ্যে বাংলাদেশ সংখ্যাগরিষ্ঠ শহুরে দেশে পরিণত হতে পারে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে আবাসনের চাহিদা ১ কোটি ৫ লাখ ইউনিটে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
কর্মশালায় সরকারি প্রতিষ্ঠান, বাংলাদেশ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, স্থপতি ও প্রকৌশলী সংগঠন, আবাসন ব্যবসায়ী, নির্মাণ খাতের প্রতিনিধি, পরিবেশ বিশেষজ্ঞ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের অতিরিক্ত সচিব ও চেয়ারম্যান মোস্ত. ফেরদৌসী বেগম বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত ও উন্নয়ন সহযোগীদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে একটি বিশ্বাসযোগ্য ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব, যা দেশে টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল ভবন নির্মাণে সহায়তা করবে।
পরামর্শ সভায় সুশাসন, প্রাতিষ্ঠানিক সমন্বয়, অর্থায়ন ব্যবস্থা, প্রশিক্ষণ ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম উন্নয়ন নিয়ে বেশ কিছু সুপারিশ উঠে আসে। এসব সুপারিশ এইচবিআরআই-ডিইএসএইচ বাস্তবায়ন নির্দেশিকা ও পর্যায়ক্রমিক জাতীয় কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়ক হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই উদ্যোগ বাংলাদেশের জাতীয়ভাবে নির্ধারিত অবদান (এনডিসি) এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রার (এসডিজি) ১১, ১২ ও ১৩ নম্বর লক্ষ্য অর্জনে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে এটি কম কার্বন নির্ভর, সম্পদ সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব নির্মিত পরিবেশ তৈরির পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
১৪৩ বার পড়া হয়েছে