আশাশুনিতে বছর ধরে খালি থাকা আশ্রয়ণ প্রকল্পের নতুন করে বরাদ্দের উদ্যোগ
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ১০:০২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের মহিষকুড় এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত ১৮টি ঘর এক বছরেরও বেশি সময় ধরে খালি পড়ে আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, অনিয়মের মাধ্যমে প্রাথমিক তালিকা তৈরির কারণে প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারগুলো ঘর পায়নি। জেলা প্রশাসনের নির্দেশে এখন নতুন তালিকা প্রণয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
আশাশুনি উপজেলার ঘোলা সড়কের মহিষকুড় এলাকায় সরকারের অধিগ্রহণ করা ৫৫ শতক জমির ওপর আশ্রয়ণ প্রকল্পের আওতায় ১৮টি ঘর নির্মাণ করা হয়। প্রতিটি ঘরে তিনটি কক্ষ ও একটি শৌচাগার রয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা। সে হিসাবে মোট নির্মাণ ব্যয় হয়েছে প্রায় ৪৬ লাখ ৭১ হাজার টাকা।
তবে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হলেও এসব ঘর এখনো কোনো ভূমিহীন বা গৃহহীন পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
মহিষকুড় গ্রামের ভূমিহীন বাসিন্দা সামছুন্নাহার (৫৫) বলেন, স্বামীর মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন ধরে অল্প কিছু খাসজমির ওপর বসবাস করছেন। তিন মেয়েকে নিয়ে কষ্টে জীবনযাপন করলেও আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের তালিকায় তাঁর নাম নেই।
একই অভিযোগ করেছেন গ্রামের হতদরিদ্র বাসিন্দা হালিমা খাতুন ও আছমা খাতুন। তাঁদের দাবি, প্রকৃত অসহায় হয়েও তাঁরা সরকারি ঘর পাননি। এমনকি প্রাথমিক তালিকায়ও তাঁদের নাম রাখা হয়নি। ফলে কারা এসব ঘর পাবেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
শ্রীউলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রভাষক দীপংকর বাছাড় বলেন, নির্মিত ঘরগুলোতে এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি। দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় কয়েকটি শৌচাগারের স্ল্যাব ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এছাড়া ঘরগুলোর চারপাশে নোনা পানির মৎস্যঘের থাকায় বসবাসের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে যাঁদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে প্রকৃত ভূমিহীনদের পাশাপাশি অপেক্ষাকৃত স্বচ্ছল পরিবারের সদস্যদের নামও ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়মের কারণে বিতর্ক সৃষ্টি হওয়ায় এখন পর্যন্ত ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া সম্ভব হয়নি। তিনি দ্রুত প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের যাচাই করে ঘর হস্তান্তরের দাবি জানান।
আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শ্যামানন্দ কুণ্ড জানান, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী আগের তালিকা বাতিল করে নতুন করে প্রকৃত উপকারভোগীদের তালিকা তৈরির কাজ চলছে। যাচাই-বাছাই শেষে খুব শিগগিরই প্রকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীন পরিবারের মধ্যে ঘরগুলো বরাদ্দ দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, আগের তালিকা কীভাবে এবং কারা তৈরি করেছিলেন, সে বিষয়ে তাঁর কাছে নির্দিষ্ট তথ্য নেই।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ বলেন, শুধু মহিষকুড় নয়, জেলার অন্য যেসব এলাকায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর বরাদ্দে সমস্যা রয়েছে, সেগুলোও দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকৃত ভূমিহীন ও অসহায় পরিবারগুলোর কাছেই সরকারি ঘর পৌঁছে দিতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, মহিষকুড় আশ্রয়ণ প্রকল্পে দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগের ব্যবস্থাও করা হবে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে