কলাপাড়ায় জমি–বিরোধে জেলেকে কুপিয়ে আহত, অভিযুক্তের অস্বীকার
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ইউনিয়নের লেমুপাড়া গ্রামে জমি–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে মোহন তালুকদার (৪০) নামের এক জেলে হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বুধবার রাত আটটার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে অভিযুক্ত পক্ষ অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আহত মোহন তালুকদার হাসপাতালের শয্যায় জানান, প্রায় দুই বছর আগে লেমুপাড়া গ্রামের মিজানুর তালুকদারের কাছ থেকে মৌখিক চুক্তির মাধ্যমে প্রায় ৯০ শতাংশ জমি কেনার জন্য দুই লাখ টাকায় সমঝোতা হয়। এ সময় তিনি বায়না হিসেবে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, সংশ্লিষ্ট জমিটি সরকারি খাসজমি।
মোহনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয় এবং আদালতে মামলা হলে জমিটি খাসজমি হিসেবে প্রমাণিত হয়। এরপর থেকেই তাঁকে বিভিন্নভাবে হয়রানি ও নির্যাতন করা হচ্ছে। অতীতে তাঁকে একাধিকবার মারধর করা হয়েছে এবং মিথ্যা মামলায় জেলেও পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
মোহনের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার রাতে পাশের খালে মাছ ধরে বাড়ি ফেরার সময় বাড়ির প্রবেশপথে তাঁর ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। এতে মাথায় গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে কলাপাড়া হাসপাতালে নিয়ে যান।
আহতের ছোট ভাই সুজন অভিযোগ করেন, হামলার পর অভিযুক্তরা তাঁদের বাড়িতে ঢুকে নগদ ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন নিয়ে যায়। তিনি আরও দাবি করেন, এখন তাঁকেও বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি জমি–সংক্রান্ত বিরোধের ন্যায্য সমাধানের দাবি জানান তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত মিজানুর তালুকদার বলেন, ঘটনার সময় তিনি আদালতের কাজে পটুয়াখালী শহরে ছিলেন এবং রাত ৯টার দিকে বাড়ি ফেরেন। তাঁর দাবি, মোহনের সঙ্গে তাঁদের জমি নিয়ে বিরোধ থাকলেও হামলার ঘটনায় তাঁর কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন বলেও তিনি দাবি করেন।
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মে নজরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ থানায় জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে