পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামে বন্যার শঙ্কা, বিপৎসীমার ওপরে দুধকুমার
মঙ্গলবার, ৩০ জুন, ২০২৬ ৬:০৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পাহাড়ি ঢল ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে কুড়িগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর মধ্যে দুধকুমার নদ বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ায় হাজারো মানুষ পানিবন্দি হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
পাহাড়ি ঢল এবং টানা ভারী বৃষ্টির প্রভাবে কুড়িগ্রামের ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমার, জিঞ্জিরাম ও অর্জুনডাসহ জেলার ৩২টি নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ধরলা নদীর পানি সেতু পয়েন্টে ৫৯ সেন্টিমিটার, তিস্তার পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ৭২ সেন্টিমিটার, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার এবং নুনখাওয়া পয়েন্টে ৫১ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে দুধকুমার নদে। নদটির পানি ৫৯ সেন্টিমিটার বেড়ে বিপৎসীমার ২৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর ফলে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার মুড়িয়ারহাট এলাকায় বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে এবং কয়েকটি স্থানে বাঁধ উপচে পানি লোকালয়ে ঢুকে পড়ে।
এতে বামনডাঙ্গা ইউনিয়নের মালিয়ানী, তেলিয়ানীপাড়া, বড়মানী, মিয়াপাড়া, সেনপাড়া, পাটেশ্বরী, বোয়ালের ডারা ও ধনিটারীসহ অন্তত ২০টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। পাশাপাশি বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
জেলা কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণাগারের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সকাল ৬টা পর্যন্ত কুড়িগ্রামে ১৩৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, ভারী বৃষ্টির কারণেই জেলার সব নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, জমি অধিগ্রহণসংক্রান্ত জটিলতার কারণে মুড়িয়ারহাট এলাকায় প্রায় ৩০০ মিটার বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। ওই ফাঁকা অংশ দিয়েই পানি প্রবেশ করেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে জিও ব্যাগ ফেলে পানি ঠেকানোর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
নাগেশ্বরী উপজেলা প্রশাসন জানিয়েছে, বাঁধ ভাঙার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামতের কাজ চলছে এবং সার্বিক পরিস্থিতি প্রশাসনের নজরদারিতে রয়েছে।
এদিকে ভারতের আসাম ও অরুণাচল প্রদেশে ভারী বৃষ্টির প্রভাবে তিস্তা নদীর পানিও বৃদ্ধি পেয়েছে। রোববার রাতে লালমনিরহাটের ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলেও সোমবার বিকেলে তা নেমে বিপৎসীমার ১৭ সেন্টিমিটার নিচে অবস্থান করে। তবে তিস্তা তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
লালমনিরহাট জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলায় পাঁচ উপজেলার জন্য ২২০ টন চাল এবং ৫ লাখ ৪৬ হাজার ৫০০ টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টায় নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর ও গাইবান্ধার তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদে আবারও বিপৎসীমা অতিক্রমের আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে এবং কুড়িগ্রামের দুধকুমার অববাহিকায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
একই সঙ্গে আগামী কয়েক দিনে সিলেট, সুনামগঞ্জ, শেরপুর, ময়মনসিংহ ও নেত্রকোনার হাওরাঞ্চলের কয়েকটি নদ-নদীর পানিও বৃদ্ধি পাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ২ থেকে ৪ জুলাইয়ের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর ও বগুড়া জেলার ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদী সতর্কসীমায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে দেশের উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টিপাত আরও বাড়তে পারে এবং তা টানা তিন থেকে চার দিন অব্যাহত থাকতে পারে। মৌসুমি বায়ু আরও সক্রিয় হলে উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি জটিল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১২০ বার পড়া হয়েছে