নরসিংদীতে রক্তাক্ত বৃদ্ধের লাশ গুমের চেষ্টা, চালককে গণধোলাই দিয়ে পুলিশে দিল জনতা
বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ ২:০৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর পলাশে একটি নির্জন স্থানে রক্তাক্ত ও মুমূর্ষু এক বৃদ্ধকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সময় মাইক্রোবাসের চালককে হাতেনাতে আটক করেছে স্থানীয় জনতা। উত্তেজিত জনতার গণধোলাইয়ের শিকার ওই চালককে পরে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে এবং উদ্ধার হওয়া বৃদ্ধকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার বাগদি এলাকার পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কে।
ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার (২৪ জুন) সকাল আনুমানিক ৮টার দিকে। উপজেলার বাগদি এলাকায় পাঁচদোনা-ঘোড়াশাল সড়কের পাশে একটি মাইক্রোবাস থামিয়ে রক্তাক্ত এক বৃদ্ধকে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করছিলেন চালক। বিষয়টি স্থানীয় লোকজনের নজরে এলে তারা ধাওয়া করে চালককে হাতেনাতে ধরে ফেলেন।
আটককৃত মাইক্রোবাস চালকের নাম মনির হোসেন। তিনি বরিশালের বানারীপাড়া উপজেলার চিরাপাড়া গ্রামের মৃত জলিল হাওলাদারের ছেলে। তবে উদ্ধার হওয়া নিহত ওই বৃদ্ধের নাম-পরিচয় এখনও জানা যায়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চালককে আটকের পর বিক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়। খবর পেয়ে পলাশ থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে চালক মনিরকে আটক করে এবং গুরুতর আহত বৃদ্ধকে উদ্ধার করে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চালক মনির হোসেন দাবি করেছেন, ঢাকার গাবতলী এলাকার একটি পাম্পের সামনে চার-পাঁচজন অজ্ঞাত ব্যক্তি ওই বৃদ্ধকে মুমূর্ষু অবস্থায় তার গাড়িতে তুলে দিয়েছিল। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও পথিমধ্যে আইনি ঝামেলার ভয়ে তিনি নরসিংদীর এই নির্জন স্থানে তাকে ফেলে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহেদ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। আটক গাড়ি চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং ঘটনার পেছনের প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
১৪৫ বার পড়া হয়েছে