সর্বশেষ

সারাদেশ

চকরিয়া ও সীতাকুণ্ডে ৬ হাজার পরিবার স্বাবলম্বী, বেড়েছে আয় ও খাদ্য নিরাপত্তা

আহসান সুমন, কক্সবাজার
আহসান সুমন, কক্সবাজার

মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২৬ ৪:৪৯ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
কক্সবাজারের চকরিয়া ও চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ৬ হাজার দরিদ্র পরিবারের জীবনমানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি এসেছে। গত সাড়ে তিন বছরে বাস্তবায়িত একটি সমন্বিত উন্নয়ন প্রকল্পের মাধ্যমে পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধি, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন এবং নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা গেছে।
প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠান

কক্সবাজারের চকরিয়া এবং চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার উপকূলীয় ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে বাস্তবায়িত ‘বিজিডি-১০৪২’ প্রকল্প সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৬ হাজার দরিদ্র পরিবার খাদ্য নিরাপত্তা, পুষ্টি, আয় বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় সক্ষমতা অর্জন করেছে।

আজ সকালে কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেলের শাহসুজা হলরুমে আয়োজিত প্রকল্পের সমাপনী অনুষ্ঠানে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসকের পক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন এনজিও সেলের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. আজহার উদ্দিন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আনন্দের নির্বাহী পরিচালক মনিরুজ্জামান মিয়া। স্বাগত বক্তব্য দেন ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (ডব্লিউএইচএইচ)-এর হেড অব প্রোগ্রাম মালটে সুমেলফিদের।

এ সময় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, দাতা সংস্থার প্রতিনিধি এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। তারা বলেন, খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, জলবায়ু সহনশীল জীবিকায়ন, দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং নারীর ক্ষমতায়নে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

প্রকল্পের আওতায় চকরিয়া উপজেলার কাকারা ও কৈয়ারবিল ইউনিয়ন এবং সীতাকুণ্ড উপজেলার সৈয়দপুর ও মুরাদপুর ইউনিয়নের পরিবারগুলোকে বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কারিগরি সহায়তা এবং জীবিকাভিত্তিক উপকরণ প্রদান করা হয়। ফলে অনেক পরিবার নতুন আয়ের উৎস তৈরি করতে সক্ষম হয়েছে এবং স্বাবলম্বী হওয়ার পথে এগিয়েছে।

বক্তারা বলেন, প্রকল্পটি শুধু একটি উন্নয়ন কার্যক্রমের সমাপ্তি নয়; বরং দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন উদ্যোগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি তৈরি করেছে। সঠিক পরিকল্পনা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাতেও টেকসই উন্নয়ন এবং দারিদ্র্য হ্রাস সম্ভব—এই প্রকল্প তার বাস্তব উদাহরণ।

প্রকল্প ব্যবস্থাপক কৃষিবিদ এম. এ. কুদ্দুস অনুষ্ঠানে প্রকল্পের সার্বিক কার্যক্রম ও অর্জন তুলে ধরেন। তিনি জানান, জলবায়ু সহনশীল কৃষি সম্প্রসারণ, বিকল্প আয়ের সুযোগ সৃষ্টি, গ্রামীণ উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং দুর্যোগ প্রস্তুতি জোরদারে নানা কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হয়েছে। বিশেষ করে নারীদের আর্থিক স্বাধীনতা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণ বাড়াতে নেওয়া উদ্যোগগুলোর ইতিবাচক ফল ইতোমধ্যে দৃশ্যমান হয়েছে।

অনুষ্ঠানে প্রকল্পের উপকারভোগীরাও নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পাশাপাশি প্রকল্পের অর্জন দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখতে সরকারি-বেসরকারি সমন্বয় বৃদ্ধি, জলবায়ু সহনশীল কৃষির বিস্তার, স্থানীয় উদ্যোক্তা তৈরি এবং নারী নেতৃত্ব বিকাশে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

শেষ পর্বে গ্লোবাল মাইন্ডলেস কনসালটিং ফার্মের টিম লিডার মো. ইলিয়াস প্রকল্পের সমাপ্তি মূল্যায়ন প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন। তিনি প্রকল্পের অর্জন, চ্যালেঞ্জ, শিক্ষা এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব তুলে ধরে ভবিষ্যৎ কার্যক্রমের জন্য বিভিন্ন সুপারিশ প্রদান করেন।

উল্লেখ্য, জার্মান কোঅপারেশনের আর্থিক সহায়তা এবং ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফে (ডব্লিউএইচএইচ)-এর কারিগরি সহযোগিতায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা আনন্দ ও সিপ যৌথভাবে ‘বিজিডি-১০৪২’ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। সাড়ে তিন বছর মেয়াদি এ প্রকল্পটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।

১২৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন