বান্দরবানে ইউপিডিএফ'র ৩য় জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত, নতুন নেতৃত্ব ঘোষণা
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬ ১০:৫০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-গণতান্ত্রিক)-এর ৩য় বান্দরবান জেলা কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (১৩ জুন ২০২৬) সকালে বান্দরবান শহরের মেঘলা এলাকার প্লাজা কনভেনশন সেন্টারে এই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়নসহ আত্ম-নিয়ন্ত্রণাধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে জুম্ম সমাজে ইস্পাত-কঠিন ঐক্য গড়ে তুলুন”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজনটি সম্পন্ন হয়।
অনুষ্ঠানে জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে সংগঠনের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা অংশগ্রহণ করেন। কাউন্সিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউপিডিএফ (গণতান্ত্রিক)-এর কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সমীরণ চাকমা (চার্মিং)।
বান্দরবান জেলা কমিটির সভাপতি রাম তন সাং বম (মালেক)-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অমল কান্তি চাকমা, কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা আপ্রুমং মারমা, কেন্দ্রীয় ছাত্র ও যুববিষয়ক সম্পাদক বিজয় চাকমা এবং সাবেক সভাপতি উবামং মারমা প্রমুখ।
বক্তারা পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করেন। তারা অভিযোগ করেন, অঞ্চলের সাধারণ কৃষক, শ্রমজীবী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার এখনো পূর্ণভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
এ সময় তারা পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন, ভূমি সমস্যার সমাধান, স্থানীয় জনগণের সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের দাবিতে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
নেতারা আরও বলেন, স্থায়ী শান্তি, সম্প্রীতি ও উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হলে চুক্তির অসম্পূর্ণ ধারাগুলো বাস্তবায়ন করা জরুরি। একই সঙ্গে পার্বত্য অঞ্চলের বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে ঐক্য ও সহযোগিতা বৃদ্ধির আহ্বান জানান তারা।
কাউন্সিলে সংগঠনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা পর্যালোচনা করা হয়। পাশাপাশি আগামী দিনের আন্দোলনকে আরও বেগবান করার বিষয়ে একাধিক প্রস্তাব গৃহীত হয়।
দ্বিতীয় অধিবেশনে নতুন জেলা কমিটি ঘোষণা করা হয়। এতে উবামং মারমাকে সভাপতি এবং মংশৈপ্রু ত্রিপুরাকে সাধারণ সম্পাদক করে ১৩ সদস্যবিশিষ্ট নতুন কমিটি গঠন করা হয়। নতুন কমিটি আগামী তিন বছর দায়িত্ব পালন করবে। পরে বিদায়ী কমিটির কাছ থেকে নবনির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর সম্পন্ন হয়।
১২৫ বার পড়া হয়েছে