রাঙামাটির পাহাড় ধস ট্রাজেডির ৯ বছর: এখনো ঝুঁকিপূর্ণ বসতি, পুনর্বাসন অনিশ্চয়তা
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬ ১০:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
আজ ১৩ জুন। রাঙামাটির ইতিহাসে স্মরণকালের সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধস ট্রাজেডির ৯ম বার্ষিকী। ২০১৭ সালের এই দিনে টানা ভারী বর্ষণের কারণে ভয়াবহ পাহাড় ধসে প্রাণ হারান সেনাসদস্যসহ অন্তত ১২০ জন মানুষ। সেই ভয়াবহ দিনের স্মৃতি আজও পাহাড়ের মানুষের মনে আতঙ্ক হয়ে রয়ে গেছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, সেদিন ভোর থেকে শুরু হওয়া প্রবল বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে একের পর এক পাহাড় ধসে পড়ে রাঙামাটির ভেদভেদি, যুব উন্নয়ন এলাকা, উলুছড়া, রূপনগর, শিমুলতলীসহ কাপ্তাই উপজেলার বিভিন্ন এলাকা। মুহূর্তেই বহু বসতি মাটিচাপা পড়ে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়। উদ্ধার অভিযান চলতে থাকে দীর্ঘ সময় ধরে, আর বাড়তে থাকে প্রাণহানির সংখ্যা।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ঘটনার ৯ বছর পরেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের স্থায়ী পুনর্বাসন কার্যক্রম সম্পূর্ণ হয়নি। বরং নতুন করে আবারও পাহাড়ের ঢালে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি গড়ে উঠছে বলে স্থানীয়রা জানান।
২০১৭ সালের দুর্ঘটনার পর বিশেষজ্ঞ কমিটি পাহাড় ধস রোধে ১১ দফা সুপারিশ প্রদান করলেও তার বাস্তবায়ন নিয়ে এখনো প্রশ্ন রয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সুপারিশগুলোর বেশিরভাগই এখনো কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা জানান, সাময়িক সহায়তা দেওয়া হলেও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন কার্যক্রম দৃশ্যমান নয়। একই সঙ্গে পাহাড় কাটা, অপরিকল্পিত বসতি স্থাপন এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাস অব্যাহত থাকায় নতুন করে দুর্যোগের ঝুঁকি বাড়ছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারীদের সরিয়ে নেওয়া এবং সচেতনতা বৃদ্ধির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে স্থায়ী পুনর্বাসনের ক্ষেত্রে দীর্ঘ প্রক্রিয়া ও নানা বাস্তবতা কাজ করছে বলে তারা উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধুমাত্র বর্ষা মৌসুমে সতর্কতা বা অস্থায়ী উদ্যোগ দিয়ে পাহাড় ধসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব নয়। টেকসই পরিকল্পনা, ঝুঁকিপূর্ণ বসতি সরিয়ে নেওয়া এবং সুপারিশগুলোর পূর্ণ বাস্তবায়ন জরুরি।
তাদের মতে, কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে রাঙামাটি আবারও ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
১৩৩ বার পড়া হয়েছে