মোংলা ও আশপাশে মাদক সিন্ডিকেট সক্রিয়তার অভিযোগ, স্থানীয়দের উদ্বেগ
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬ ৯:০১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাগেরহাটের মোংলা পৌরসভা ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সিন্ডিকেটের তৎপরতা বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ উঠেছে।
এলাকাবাসীর দাবি, চিহ্নিত কিছু মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং বিভিন্ন স্পটকে কেন্দ্র করে মাদক বাণিজ্য পরিচালনা করছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়াবা, গাঁজা ও চোলাই মদের মতো মাদক বিভিন্ন পয়েন্টে খুচরা ও সিন্ডিকেটভিত্তিকভাবে বিক্রি হচ্ছে। এসব কার্যক্রমে কিছু নির্দিষ্ট এলাকা ও ভাসমান স্পট ব্যবহৃত হচ্ছে বলে দাবি করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, মোংলা পৌর এলাকা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিভিন্ন স্থানে মাদক চক্রের কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে। সন্ধ্যার পর কিছু এলাকায় অচেনা তরুণদের আনাগোনা বাড়ছে বলে জানান স্থানীয় বাসিন্দারা। এতে যুবসমাজ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে এবং চুরি-ছিনতাইসহ অন্যান্য অপরাধ বাড়ছে বলেও তাদের দাবি।
স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, কিছু মাদক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জামিনে মুক্ত হয়ে আবারও একই কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো পূর্ণাঙ্গভাবে স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
মোংলার পৌর এলাকায় যেসব স্পটে দেদারসে বিক্রি হচ্ছে মাদক: কবর স্থান রোড, শ্রমিক আবাসিক ভবনের কিছু পরিত্যাক্ত ভবন, বড় পুকুর পাড়, মাদ্রাসা রোড, হরিপদ কলোনী, শামসুর রহমান রোড, শিকারীর মোড় সংলগ্ন আশ পাশের এলাকা, আনসার ক্লাব, আফসার উদ্দিন সড়ক, কুমারখালী, পশুর নদীর পাড় থেকে কার্গো জাহাজে ট্রলার যোগে বিক্রি, জয় বাংলা সড়ক, মোংলা সরকারি কলেজের ২য় গেট এলাকা, নতুন পুরাতন দুটি বাস স্ট্যান্ডে, চৌকিদারের মোড়, মনপুরা ব্রিজ এলাকা, নারিকেল তলা আবাসান, মাছ মারা, মাকোড়ডোন, বটতলা সংলগ্ন খালি মাঠে, পশু হাসপাতাল রোড়, উপজেলার পরিত্যাক্ত ভবনগুলোতে, তাহেরের মোড়, খ্রিস্টান কবরস্থান রোড, নতুন কবরস্থান এলাকা, চরকানা, সিগনাল টাওয়ার এলাকা, ৬ তলার মোড় (গোল চত্বর) জিয়া সড়কের কিছু আংশ, বাতেন সড়ক এলাকা, কওড়া তলা ব্রিজ সংলগ্ন, (৬ তলা গোল চত্বর থেকে পূর্ব পাশে) পোট স্কুল মাঠ, পিছনের শহীদমিনারসহ বাগানে, আল প্রিন্স বারের সামনের পুকুরে ভিতরের পাড়ে, বেড়ির বাঁধ, পৌর শহরের ৫নং ওয়ার্ডের বালুর মাঠ, ট্রেডার্স মসজিদ রোডসহ আশ পাশের কিছু এলাকা, শ্রম কল্যান রোড, পুরাতন মুরগি বাজার, দিগন্ত স্কুলের পরিত্যাক্ত ভবনে, শ্রমিক সংঘের মাঠ, মোংলা লঞ্চ ঘাট, বানিশান্তা খেয়া ঘাট, ফেরিঘাট, ৪নং ওয়ার্ডের সরকার মার্কেট, দিগরাজ বাঁশ বাজার, দিগরাজ বালুর মোড়, টি এ ফারুক স্কুলের পিছনে মুচি বাড়ির বাগান, ছাড়াবাড়িসহ নাম না জানা বিভিন্ন ভাসমান স্থানে।
উপজেলার কাইনমারি, কানাইনগর, মুজিব কেল্লা, চাদপাই মাজার এলাকা, মালগাজি ক্লাব, টাটিবুনিয়া সড়ক, পাকখালি আবাসন, মিঠাখালি বাজার, বাঁশতলা বাজার, চেটের হাট, খানজাহান আলি বাজার, বৌদ্ব মারি, চিলা বাজার, হলদি বুনিয়ার ব্রাক্ষণের মাঠ, বালুর মোড়, পঙ্গুর মোড়, পাগলোর মোড়, দিলিপের দোকান সংলগ্ন এলাকা, কলাতলা এলাকা, জোড়া ব্রিজ এলাকা চিলা, কচুবুনিয়া বাজার, জয়মনি, সোনাইল তলা, শিখি সোনাইল তলা, চাপড়ার মোড়, গাছির মোড়, কালিকা বাড়ি, মৌ খালি, সুন্দরবন ইউনিয়নের বুড়বুড়িয়া এলাকা, জিউধরা বাজার এলাকাসহ মোংলার আশপাশের কিছু স্থানে।
এলাকাবাসীর দাবি, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী ছত্রছায়ার কারণে অনেক সময় সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে সাহস পান না। অভিযোগ করলে হুমকি বা সামাজিক চাপের মুখে পড়তে হয় বলেও দাবি করা হয়েছে।
তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলছে। মোংলা থানা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে অভিযান চালিয়ে একাধিক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং মাদকসহ আটক করা হয়েছে।
এছাড়া ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন সময় জরিমানা ও কারাদণ্ডও প্রদান করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে।
মোংলা সার্কেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকবিরোধী কার্যক্রমে “জিরো টলারেন্স” নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে এবং ভবিষ্যতে অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করেন, মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আরও কঠোর ও সমন্বিত অভিযান প্রয়োজন, যাতে তরুণ সমাজকে রক্ষা করা যায় এবং এলাকা নিরাপদ রাখা সম্ভব হয়।
১৭১ বার পড়া হয়েছে