দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্বে থাকা ডিডি কামরুজ্জামানকে প্রত্যাহারের দাবি
শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬ ১:৩৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক (ডিডি) মো. কামরুজ্জামানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৭.৫ ধারা লঙ্ঘনসহ নানা অনিয়ম ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তাকে খুলনা অঞ্চল থেকে প্রত্যাহারের দাবি জোরালো হচ্ছে।
জানা গেছে, মো. কামরুজ্জামান মূলত জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা পদে কর্মরত থাকলেও প্রায় দুই বছর ধরে খুলনা অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। এ সময় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিও ফাইল অকারণে আটকে রাখা ও ফেরত পাঠানোর অভিযোগ ওঠে তার বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের এমপিও অনুমোদনে বিলম্ব ও নির্দেশনা উপেক্ষার অভিযোগে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে দুই সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। তদন্ত কমিটির সদস্য হিসেবে রয়েছেন শারীরিক শিক্ষার উপ-পরিচালক অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম এবং পরিকল্পনা ও উন্নয়ন শাখার সহকারী পরিচালক-১ মো. মিজানুর রহমান। গত ৭ জুন থেকে তারা তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছেন।
ইতোমধ্যে সাপ্তাহিক ‘ডাকুয়া’র সম্পাদক শামীম বিন সাত্তার, শৈলকুপা পাইলট উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফজলুর রহমান এবং কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার তালবাড়ীয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আজিজুর রহমান তদন্ত কমিটির কাছে লিখিত বক্তব্য জমা দিয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, গত ২ মে অনুষ্ঠিত এমপিও সভার পর আরও সাত থেকে আটটি এমপিও ফাইল কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই প্রত্যাহার করা হয়, যা এমপিও নীতিমালা-২০২৫ এর ১৭.৫ ধারার পরিপন্থী। এছাড়া মেহেরপুরের গাংনী উপজেলায় বেশ কয়েকটি বকেয়া ও নতুন এমপিও ফাইল সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাদের মাধ্যমে ফেরত পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকরা।
এদিকে, গাংনী উপজেলার ১৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অতিরিক্ত শাখা দেখিয়ে প্রায় ১১২ জন শিক্ষক-কর্মচারীকে বিভিন্ন সময়ে এমপিওভুক্ত করার ঘটনায় সরকারি অর্থের বড় ধরনের ক্ষতির অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশের পর খুলনা বিভাগীয় কমিশনারের নির্দেশে মেহেরপুর জেলা প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। তবে এখনো তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি।
অভিযোগকারীদের দাবি, চলমান তদন্তকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে বিভিন্ন জেলার শিক্ষকদের এমপিও সুবিধা প্রাপ্তি বিলম্বিত করা হচ্ছে। ফলে অনেক শিক্ষক অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
এ অবস্থায়, প্রায় দুই বছর ধরে ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব পালনকারী মো. কামরুজ্জামানকে খুলনা অঞ্চল থেকে প্রত্যাহার করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহল।
১২৬ বার পড়া হয়েছে