সর্বশেষ

সারাদেশ

ময়মনসিংহ সীমান্তে বাড়ছে মাদকের চোরাচালান, উদ্বেগে স্থানীয়রা

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 

শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২৬ ৯:১৭ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের সীমান্তবর্তী হালুয়াঘাট ও ধোবাউড়া উপজেলা দিয়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকদ্রব্যের চোরাচালান। ভারত সীমান্ত ঘেঁষা বিভিন্ন পয়েন্ট ব্যবহার করে গাঁজা, ইয়াবা, ফেনসিডিল, ভারতীয় মদ, এসকাফ সিরাপসহ নানা ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। এসব মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় কিশোর-তরুণ থেকে শুরু করে বিভিন্ন বয়সী মানুষ নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ছে, যার প্রভাব পড়ছে সামাজিক স্থিতিশীলতা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে।

এক সময় শিক্ষা ও সংস্কৃতির জেলা হিসেবে পরিচিত ময়মনসিংহে এখন মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকা দিয়ে আসা মাদক প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে জেলার বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকলেও চোরাচালান পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।

হালুয়াঘাট বাজার এলাকার বাসিন্দা সেলিম মিয়া জানান, প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যায় বিভিন্ন যানবাহনে করে লোকজন এসে মাদক সংগ্রহ করে নিয়ে যায়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক বলেন, সহজলভ্যতার কারণে যুবসমাজের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ছে। নেশার অর্থ জোগাতে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধও বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনকি পারিবারিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটছে।

ধোবাউড়া উপজেলার রিকশাচালক সোলেমান হোসেন বলেন, এলাকায় কারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত তা অনেকেই জানেন, কিন্তু ভয় ও হুমকির কারণে কেউ মুখ খুলতে সাহস পান না।

স্থানীয়দের প্রশ্ন, সীমান্ত এলাকায় আটকের পরিবর্তে কেন জেলার বিভিন্ন স্থানে ভারতীয় মদ ও অন্যান্য মাদক উদ্ধার হচ্ছে। তাদের মতে, সীমান্তরক্ষী বাহিনী ও পুলিশ আরও কার্যকর ভূমিকা নিলে মাদক চোরাচালান অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে মাদকের বিরুদ্ধে ১ হাজার ৬৬৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এতে ৪০৮টি মামলা দায়ের এবং ৪৭২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানে ১৫৬ হাজার ৪৪৫ পিস ইয়াবা, ৪০৯ কেজি গাঁজা, ১১৩ বোতল বিদেশি মদ, ২৯৩ লিটার চোলাই মদ, ৬ হাজার ৮০০ লিটার ওয়াশসহ বিপুল পরিমাণ মাদক জব্দ করা হয়। জব্দকৃত মাদকের বাজারমূল্য ছিল প্রায় ৬ কোটি ২৩ লাখ ৭৬ হাজার টাকা।

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত ৭০৩টি অভিযানে ১৮৩টি মামলা দায়ের এবং ১৮৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময়ে প্রায় ৮৮ হাজার পিস ইয়াবা ও ৮১ কেজির বেশি গাঁজাসহ বিভিন্ন মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়, যার আনুমানিক মূল্য ৩ কোটি ২ লাখ টাকার বেশি।

জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশে উৎপাদিত না হওয়া অধিকাংশ মাদক ভারত ও মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে প্রবেশ করে। মাদকবিরোধী অভিযান নিয়মিত পরিচালনার পাশাপাশি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন করতে বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হচ্ছে।

সমাজ রূপান্তর সাংস্কৃতিক সংঘের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ তানসেন বলেন, মাদককে কেন্দ্র করেই জেলার নানা ধরনের অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে। পরিত্যক্ত ভবনগুলো মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। তিনি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও যুবসমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ ব্যাটালিয়ন (৩৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নুরুল আজিম বায়েজীদ বলেন, সীমান্ত দিয়ে মাদক চোরাচালান ঠেকাতে বিজিবি 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করছে। এ লক্ষ্যে সীমান্তে টহল ও নজরদারি জোরদার করা হয়েছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

তবে শুধু মাদক উদ্ধার নয়, চোরাচালান চক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় এনে স্থায়ী সমাধান নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ময়মনসিংহবাসী। তাদের প্রত্যাশা, সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে আরও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

১৫৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন