মোংলায় তীব্র তাপদাহে চিংড়ি ঘেরের পানি বিষাক্ত, ক্ষতির মুখে হাজারো চাষি
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২৬ ৯:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বাগেরহাটের মোংলা উপকূলীয় অঞ্চলে চিংড়ি চাষে দেখা দিয়েছে ভয়াবহ সংকট।
দীর্ঘদিনের অনাবৃষ্টি, তীব্র তাপদাহ এবং ঘেরের পানিতে লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপক মাছ মারা যাচ্ছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন হাজার হাজার চাষি, যারা এখন চরম আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রচণ্ড গরমে ঘেরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় পানিতে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি হয়েছে। ফলে প্রতিদিন বাগদা, গলদা চিংড়ি ও সাদা মাছ মারা গিয়ে ভেসে উঠছে। অনেক চাষি ব্যাংক ও এনজিও থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চাষ শুরু করলেও এখন তারা বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোংলা উপজেলায় প্রায় ১৩ হাজার ৭৬৮ জন চাষি সরাসরি মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। চলতি মৌসুমে প্রতিকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে গত বছরের তুলনায় মাছের উৎপাদন অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে মোংলায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণ চিংড়ি ও সাদা মাছ উৎপাদিত হলেও এবারের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন। চাষিরা বলছেন, এবার ঘেরের পানি অনেক দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে এবং অতিরিক্ত গরমে পানি “ফুটন্ত” অবস্থায় চলে যাচ্ছে।
ভুক্তভোগী চাষিরা জানান, টানা গরম ও অনাবৃষ্টির কারণে ঘেরের পানি লালচে হয়ে যাচ্ছে এবং প্রতিদিন হাজার হাজার মাছ মারা যাচ্ছে। এতে তাদের বিনিয়োগ করা মূলধন সম্পূর্ণ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
অনেকে বলেন, ধারদেনা ও ঋণ নিয়ে চাষ শুরু করলেও এখন তা পরিশোধ করা দূরে থাক, পরিবারের খরচ চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে। দ্রুত সরকারি সহায়তা না পেলে বড় সংকটে পড়বেন বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
মোংলা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ চাষি এখনো সনাতন ও অপরিকল্পিত পদ্ধতিতে চিংড়ি চাষ করছেন। অনেক ঘের খুব অগভীর হওয়ায় তাপদাহে পানি দ্রুত গরম হয়ে অক্সিজেনের ঘাটতি তৈরি করছে, যা মাছ মৃত্যুর অন্যতম কারণ।
তিনি আরও বলেন, ঘেরের গভীরতা বাড়ানো, সুষম খাদ্য ব্যবহার, নির্দিষ্ট ঘনত্বে পোনা ছাড়া এবং রোগমুক্ত পোনা নিশ্চিত করতে আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ জরুরি। অন্যথায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করা কঠিন হয়ে পড়বে।
চলতি অর্থবছরে মোংলার ১৩ হাজারের বেশি চাষির মধ্যে মাত্র ৬০ জনকে সরকারি প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে অধিকাংশ চাষি এখনো আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতির বাইরে রয়েছেন, যা সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।
তীব্র তাপদাহ, অনাবৃষ্টি ও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে মোংলার চিংড়ি শিল্প এখন বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধস নামতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
১৬৩ বার পড়া হয়েছে