ময়মনসিংহে গ্রাম আদালত নিয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে সমন্বিত কর্মশালা
মঙ্গলবার, ৯ জুন, ২০২৬ ১:১৪ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
গ্রাম আদালত সম্পর্কে ব্যাপক জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং স্থানীয় পর্যায়ে দ্রুত ও সহজ বিচারসেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় একটি সমন্বিত পরিকল্পনা প্রণয়ন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
‘অল্প সময়ে স্বল্প খরচে সঠিক বিচার পেতে, চলো যাই গ্রাম আদালতে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে মঙ্গলবার (৯ জুন) ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রশাসন এবং ‘বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পের যৌথ উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ সম্মেলন কক্ষে কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আরিফুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) সৈয়দা তামান্না হুরায়রা।
বাংলাদেশে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (৩য় পর্যায়) প্রকল্পের উপজেলা সমন্বয়কারী কৃষ্ণ চন্দ্র রায়ের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত কর্মশালায় উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় বক্তারা বলেন, গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের জন্য দ্রুত, সহজলভ্য ও স্বল্প ব্যয়ে বিচারসেবা নিশ্চিত করার একটি কার্যকর ব্যবস্থা। তিন লাখ টাকা পর্যন্ত আর্থিক বিরোধ, চুক্তিভিত্তিক অর্থ আদায়, অস্থাবর সম্পত্তি পুনরুদ্ধার, সম্পত্তি জবরদখল সংক্রান্ত বিরোধ, স্থাবর সম্পত্তির দখল পুনরুদ্ধার এবং স্ত্রীর ভরণপোষণসহ বিভিন্ন ধরনের মামলা গ্রাম আদালতের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করা সম্ভব।
তারা আরও বলেন, গ্রাম আদালত সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি পেলে স্থানীয় পর্যায়ে বিরোধ দ্রুত ও শান্তিপূর্ণভাবে নিষ্পত্তি করা যাবে। একই সঙ্গে উচ্চ আদালতের ওপর মামলার চাপও কমবে। এজন্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত উদ্যোগে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম ও সেবাসমূহ জনগণের কাছে আরও ব্যাপকভাবে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউএনও আরিফুল ইসলাম বলেন, “গ্রাম আদালত সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য, দ্রুত এবং স্বল্প ব্যয়ে বিরোধ নিষ্পত্তির একটি কার্যকর মাধ্যম। এর কার্যক্রমকে আরও জনমুখী ও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, “সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি এবং সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে গ্রাম আদালতের সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। এতে সাধারণ মানুষ স্থানীয় পর্যায়েই ন্যায়বিচার পাবে এবং প্রচলিত আদালতের ওপর চাপ কমবে।”
১২৬ বার পড়া হয়েছে