কুয়াকাটায় ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক সেমিনার
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ ১:৩২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য অফিসের আয়োজনে সোমবার (৮ জুন) দুপুরে কুয়াকাটার হোটেল গ্রেভার ইন-এর হলরুমে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দর এবং কুয়াকাটা এলাকার প্রায় দেড় শতাধিক জেলে, আড়তদার ও মৎস্যজীবী অংশগ্রহণ করেন।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজয় কুমার নন্দীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. কামরুল হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন বরিশাল উপ-পরিচালক মো. মহসিন, দুমকী ও মির্জাগঞ্জ উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহফুজুর রহমান, কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন আনু এবং সাধারণ সম্পাদক হোসাইন আমির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন কলাপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা।
সেমিনারে মৎস্য অধিদপ্তরের পাঁচ বছর মেয়াদি ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে জেলে ও মৎস্যজীবীদের অবহিত করা হয়। প্রকল্পের আওতায় ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি, জেলেদের জীবনমান উন্নয়ন এবং টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগ তুলে ধরা হয়।
এ সময় জেলে সমিতি ও আড়তদার সমিতির নেতারা সমুদ্রে মাছ ধরার সময় ঝুঁকি মোকাবিলায় বিশেষ ঝুঁকি ভাতা প্রদান, উপকূলে কোস্ট রেডিও স্থাপন, উদ্ধারকারী যানবাহনের ব্যবস্থা এবং শতভাগ প্রণোদনার আওতায় আনার দাবি জানান। মৎস্য কর্মকর্তারা জানান, এসব দাবি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. কামরুল হাসান বলেন, দেশের অর্থনীতিতে জেলেদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি জেলেদের কল্যাণে সরকার বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে সমুদ্রে মাছ ধরতে গিয়ে নিখোঁজ বা মৃত জেলেদের পরিবারকে ৫০ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে। এছাড়া অবরোধকালীন প্রণোদনা, অসচ্ছল জেলেদের গবাদিপশু প্রদান, জাল ও মৎস্য সরঞ্জাম বিতরণ কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।
তিনি আরও জানান, অবরোধকালীন সময়ে শতভাগ জেলেকে প্রণোদনার আওতায় আনতে সরকার কাজ করছে।
সেমিনারে বক্তারা জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৫ লাখ ৭১ হাজার টন ইলিশ আহরণ হয়েছে, যা সরকারের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। তবে ইলিশ রপ্তানির মাধ্যমে প্রতিবছর প্রায় ৩০০ কোটি টাকার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হচ্ছে। ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্য খাতে বৈদেশিক মুদ্রা আয় বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।
বক্তারা ইলিশ সম্পদ সংরক্ষণে জাটকা নিধন বন্ধ এবং ছোট ফাঁসের জাল ব্যবহার থেকে বিরত থাকার জন্য জেলেদের প্রতি আহ্বান জানান।
১২৬ বার পড়া হয়েছে