সর্বশেষ

জাতীয়

তীব্র গরমে ভয়াবহ লোডশেডিং, বেড়েছে বিদ্যুৎ সংকট, বিপর্যস্ত জনজীবন

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ ৬:৫৫ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
তীব্র গরমের মধ্যে সারা দেশে বেড়েছে বিদ্যুতের সংকট। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার চিত্র বলছে, কোথাও দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকছে না, আবার কোথাও ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুৎ মিলছে মাত্র কয়েক ঘণ্টা। ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি হাসপাতাল, শিক্ষার্থী, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানায় বড় ধরনের ভোগান্তি তৈরি হয়েছে।
বিদ্যুৎ সংকট

দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ আকার নিয়েছে লোডশেডিং। বিদ্যুৎ না থাকায় প্রচণ্ড গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ রোগীরা। পাশাপাশি শিক্ষার্থী, অটোরিকশাচালক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও শিল্প উদ্যোক্তারা পড়েছেন বড় সংকটে।

দেশের অন্তত আটটি জেলা ও ১৫টি উপজেলার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, অনেক এলাকায় দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকছে। কিছু এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। আবার কোথাও দিনে ২০ থেকে ২৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ঘটনা ঘটছে।

পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) তথ্য অনুযায়ী, বিদ্যুতের চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নিয়মিত লোডশেডিং করতে হচ্ছে। রোববার সন্ধ্যায় দেশের বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৫৭৩ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে লোডশেডিং ছিল ১ হাজার ৮২১ মেগাওয়াট। এর আগে দুপুরে চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ৮৪ মেগাওয়াট, তখন লোডশেডিং করতে হয়েছে ২ হাজার ৬৩৪ মেগাওয়াট।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা বলছেন, গ্যাস সংকটের কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। আগে বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে প্রতিদিন প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট পর্যন্ত গ্যাস সরবরাহ করা হলেও বর্তমানে তা কমে প্রায় ৭০ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছে। ফলে চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না।

সবচেয়ে সংকটপূর্ণ পরিস্থিতি দেখা গেছে সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে। সেখানে ২৪ ঘণ্টায় গড়ে মাত্র পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। এলাকার বিদ্যুতের চাহিদা ৯ মেগাওয়াট হলেও জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ হচ্ছে মাত্র ৩ মেগাওয়াট। ফলে দিনে ও রাতে কয়েক দফায় দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বন্ধ থাকছে।

মানিকগঞ্জের সাটুরিয়াতেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। সেখানে ১৪ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ। দিনে ২০ থেকে ২৫ বার পর্যন্ত লোডশেডিং হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। যশোরের অভয়নগরে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৪ থেকে ১৫ বার বিদ্যুৎ গেছে। রাজবাড়ী শহরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে একাধিকবার বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। মুন্সীগঞ্জ, ঝিনাইদহ, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও কুয়াকাটাতেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে মানুষের স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংকটের বড় প্রভাব পড়েছে শিল্প ও ব্যবসা খাতে। নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার শিল্পাঞ্চলে গ্যাস সংকটের পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘাটতিতে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় যন্ত্রপাতি চালু করতে সময় লাগছে এবং উৎপাদন খরচ বাড়ছে।

কুয়াকাটার হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির মুখে পড়েছেন। দীর্ঘ সময় জেনারেটর চালাতে হওয়ায় খরচ বাড়ছে। বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক পর্যটক বুকিং বাতিল করছেন বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

বিদ্যুৎ সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও। করাতকল, ওয়ার্কশপ, চালকল, অনলাইন সেবা ও কম্পিউটারভিত্তিক কাজ ব্যাহত হচ্ছে। ইজিবাইক ও অটোরিকশাচালকেরা পর্যাপ্ত সময় ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় আয় কমে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন।

স্বাস্থ্যসেবাতেও পড়েছে লোডশেডিংয়ের প্রভাব। ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জেনারেটর না থাকায় রোগীদের গরমে কষ্ট হচ্ছে। সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জেনারেটর দীর্ঘদিন ধরে বিকল থাকায় চিকিৎসা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এইচএসসি পরীক্ষার সময় ঘন ঘন বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরাও সমস্যায় পড়েছেন। রাতের বেলায় অনেক শিক্ষার্থী মোমবাতি বা চার্জলাইটের আলোয় পড়াশোনা করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলোর কর্মকর্তারা বলছেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ পাওয়ার কারণেই লোডশেডিং বাড়ছে। বিভিন্ন এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় অর্ধেক বা তার কাছাকাছি বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন