তানোরে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে জমি দখল ও ভাঙচুরের অভিযোগ
সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬ ২:০১ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজশাহীর তানোর উপজেলার তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খানের বিরুদ্ধে জমি দখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার সীমান্তবর্তী আলোকছত্র গ্রামে এ ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগীরা। এ ঘটনায় তারসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলার নথি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আলোকছত্র মৌজার জে.এল. নং-১২৪, আর.এস. খতিয়ান নং-৩৩ এবং দাগ নং-৩২৭-এর একটি বাড়ি শ্রেণির জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সংশ্লিষ্ট জমিতে ওয়ারিশ সূত্রে মৃত জব্বার খাঁনের দুই ছেলে আজিজ খাঁন ও নজরুল ইসলাম খানের সমান অংশীদারত্ব রয়েছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ ডিসেম্বর দুপুরে নজরুল ইসলাম খান কয়েকজন লোক নিয়ে ওই জমির পুরো অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়িতে ভাঙচুর ও মালামাল লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ঘটনার পর আলোকছত্র গ্রামের আব্দুল আজিজের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪৩) বাদী হয়ে রাজশাহীর জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের গোদাগাড়ী আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। মামলাটি সি/২০২৫ নং-১০৪৯ (গোদাগাড়ী) হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩২৩, ৪২৭, ৪৪৮, ৫০৬(২) ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশের তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, বাদী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি গ্রহণ এবং স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। পরবর্তীতে সংগৃহীত তথ্য-উপাত্ত ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনা করে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।
এদিকে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য আকিল আমিন শুভ জেলা প্রশাসক, আঞ্চলিক মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত আবেদন করে অভিযুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রধানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
আবেদনে জমি দখল, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগের পাশাপাশি ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ পদে নিয়োগ, কর্মচারী নিয়োগে অনিয়ম এবং নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগও উত্থাপন করা হয়েছে।
এছাড়া কলেজে কর্মচারী নিয়োগের নামে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
তবে তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নজরুল ইসলাম খান। তিনি বলেন, দলিল অনুযায়ী তিনি সংশ্লিষ্ট জমির বৈধ মালিক এবং প্রতিপক্ষ তার জমি দখলের চেষ্টা করছে। তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নজরুল ইসলাম খান আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অন্যান্য অভিযোগও ভিত্তিহীন এবং ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির উদ্দেশ্যে এসব অভিযোগ করা হয়েছে।
বর্তমানে বিষয়গুলো আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তাধীন রয়েছে।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে