সুন্দরবনে অভিযান: অস্ত্র-গোলাবারুদসহ করিম শরীফ বাহিনীর সদস্য আটক
বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬ ১০:১১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সুন্দরবনে দস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের বিশেষ অভিযান “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড”-এর আওতায় কুখ্যাত ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর এক সক্রিয় সদস্যকে অস্ত্র, গোলাবারুদ ও বন্যপ্রাণী শিকারের সরঞ্জামসহ আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) দুপুরে কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, সরকারের নির্দেশনায় সুন্দরবন অঞ্চলে সক্রিয় বনদস্যুদের নির্মূলের লক্ষ্যে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড “অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন” এবং “অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড” নামে দুটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করছে।
এই ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ৩ জুন ২০২৬ বুধবার বিকেল ৩টায় কোস্ট গার্ড বেইস মোংলা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানকালে বাগেরহাটের শরণখোলা থানাধীন আমুরবুনিয়া ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন ড্রেনের খাল এলাকায় অবস্থানরত ডাকাতদের ধাওয়া করা হয়। এ সময় ডাকাতরা পালানোর চেষ্টা করলে কোস্ট গার্ড সদস্যরা একজনকে আটক করতে সক্ষম হয়।
আটকের সময় তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়—৪টি একনলা বন্দুক, ২০ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ৭৪ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ৭ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, ১টি টেলিস্কোপ, ১টি সোলার প্যানেল, ১টি ব্যাটারি, ১টি ওয়াকিটকি চার্জার, ১টি হরিণের মাথা (শিংসহ), ৩ কার্টন সিগারেট, ২ বস্তা চাল এবং ১টি কাঠের বোট। এছাড়া ডাকাত করিম শরীফ বাহিনীর একটি আস্তানা ধ্বংস করা হয়।
পরবর্তীতে আটককৃত ব্যক্তির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন রাত ১০টায় মোরেলগঞ্জ থানাধীন পি সি বাড়ইখালি এলাকায় তার বাড়িতে কোস্ট গার্ড ও পুলিশের যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়। সেখান থেকে ডাকাতি ও বন্যপ্রাণী শিকারের কাজে ব্যবহৃত আরও বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়।
আটক ব্যক্তির নাম আল-আমিন বাচ্চু হাওলাদার (৪৫)। তিনি বাগেরহাট জেলার মোরেলগঞ্জ থানার বাসিন্দা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি করিম শরীফ বাহিনীর সক্রিয় সদস্য হিসেবে সুন্দরবন এলাকায় ডাকাতি, জেলেদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায় এবং বন্যপ্রাণী শিকারের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানায় কোস্ট গার্ড।
কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও অন্যান্য আলামতসহ আটক ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল কোস্ট গার্ডের চলমান দস্যু দমন অভিযান নিয়ে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে এসব অপপ্রচার সত্ত্বেও সুন্দরবনকে দস্যুমুক্ত করতে নিয়মিত অভিযান ও গোয়েন্দা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে