বাম্পার ফলনেও লোকসানে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম চাষিরা
বুধবার, ৩ জুন, ২০২৬ ১০:৩৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
দেশের আমের রাজধানী হিসেবে পরিচিত চাঁপাইনবাবগঞ্জে চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন হলেও চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন আম চাষিরা।
উৎপাদন খরচ কয়েকগুণ বৃদ্ধি পেলেও বাজারে কাঙ্ক্ষিত মূল্য না পাওয়ায় হতাশায় দিন কাটছে বাগান মালিক ও কৃষকদের।
স্থানীয় আম চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রায় এক দশক আগে প্রতি মণ আম উৎপাদনে যেখানে খরচ হতো প্রায় ৩০০ টাকা, বর্তমানে শ্রমিকের মজুরি, সার, কীটনাশক এবং অন্যান্য কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সেই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। কিন্তু বাজারে প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে প্রায় একই দামে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে আরও কম মূল্যে।
চাষিদের দাবি, উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারদরের সামঞ্জস্য না থাকায় প্রতি মণে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। ফলে বাম্পার ফলনও তাদের জন্য আশীর্বাদ নয়, বরং আর্থিক সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
তবে লোকসানের মধ্যেও নিরাপদ ও কেমিক্যালমুক্ত আম উৎপাদনে অঙ্গীকারবদ্ধ রয়েছেন কৃষকরা। তারা জানান, সাধারণ মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ ফল পৌঁছে দিতে প্রতি কেজি আম ৬০ থেকে ৭০ টাকায় বিক্রি করছেন।
চাষিদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সংরক্ষণ সুবিধা না থাকা এবং দুর্বল বাজার ব্যবস্থাপনার কারণে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তাদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে অনেক কৃষক আম চাষ থেকে সরে যেতে বাধ্য হতে পারেন।
এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, চাঁপাইনবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াসিন আলী বলেন, জেলায় এবার ৩৭ হাজার ৪৮৭ হেক্টর জমিতে আমের বাগান রয়েছে। তীব্র গরমের কারণে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আম পেকে যাওয়ায় বাজারে সাময়িক মূল্যহ্রাস দেখা দিয়েছে। তবে মৌসুমের শেষ পর্যন্ত উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চাষিদের দাবি, সরকারি উদ্যোগে আধুনিক হিমাগার নির্মাণ, আম সংরক্ষণ ব্যবস্থা উন্নয়ন, সরাসরি বিদেশে রপ্তানির সুযোগ বৃদ্ধি এবং আমভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প গড়ে তোলা হলে এ সংকট অনেকাংশে দূর হতে পারে। পাশাপাশি কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয় উদ্যোক্তাদের মতে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী আমের সুনাম ধরে রাখতে রপ্তানি সম্প্রসারণ, সংরক্ষণ সুবিধা বৃদ্ধি এবং কৃষকদের জন্য কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করা এখন সময়ের গুরুত্বপূর্ণ দাবি।
১৪৭ বার পড়া হয়েছে