সিলেটে এসআই শিপলুকে ঘিরে বিতর্ক, অপরাধীদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ২:২১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সিলেট মহানগর পুলিশের (এসএমপি) সোবহানীঘাট ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শিপলু চৌধুরীকে ঘিরে নানা অভিযোগ ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাদক কারবারি, চোরাকারবারি ও বিভিন্ন অপরাধী চক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
বিষয়টি এখন নগরজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সোবহানীঘাট ফাঁড়িতে এসআই শিপলুকে খুব কম সময়ই পাওয়া যায়। ফাঁড়ির অদূরে অবস্থিত ‘আল-করিম হোটেল’কেই তিনি নিয়মিত বৈঠকের স্থান হিসেবে ব্যবহার করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, গভীর রাত পর্যন্ত সেখানে চোরাকারবারি ও অপরাধ জগতের ব্যক্তিদের সঙ্গে তার গোপন বৈঠক চলে। এর ফলে সোবহানীঘাট-কালিঘাট সড়ক দিয়ে ভারতীয় অবৈধ পণ্য সহজেই প্রবেশ করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, ফাঁড়ির পাশের যতরপুর এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ‘হানিট্র্যাপ’ ও ব্ল্যাকমেইল চক্র সক্রিয় থাকলেও এ বিষয়ে এসআই শিপলুর ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। সম্প্রতি ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই চক্রের কয়েকজন সদস্যকে আটক করে। এরপর থেকেই স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, পাশের ফাঁড়ির দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা হিসেবে তিনি বিষয়টি জানতেন কি না।
এসআই শিপলুর বিরুদ্ধে পুলিশ বিভাগের ভেতরেও অসন্তোষ রয়েছে বলে জানা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অভিযানে অংশ নিলেও তিনি অনেক সময় পুলিশের নির্ধারিত ইউনিফর্ম পরিধান করেন না। একাধিক ভিডিও ফুটেজে তাকে সাধারণ পোশাকে অভিযানে অংশ নিতে দেখা গেছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, পুলিশ কমিশনার থেকে শুরু করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত ইউনিফর্ম পরে দায়িত্ব পালন করলেও একজন এসআই কীভাবে দিনের পর দিন সিভিল পোশাকে অভিযান পরিচালনা করেন, তা প্রশ্নবিদ্ধ। তারা এটিকে শৃঙ্খলা ও চেইন অব কমান্ডের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময়ও এসআই শিপলুর ভূমিকা নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। সে সময় তিনি দক্ষিণ সুরমা থানার সেকেন্ড অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, ৪ আগস্ট হুমায়ুন চত্বর ও কদমতলী এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেড ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় তিনি সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। ওই ঘটনায় বহু মানুষ আহত হন এবং বিএনপি কার্যালয়ে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
এছাড়া, সম্প্রতি নাইওরপুল এলাকায় অবৈধভাবে আনা ৭০ বস্তা ভারতীয় জিরা জব্দের ঘটনায়ও তার ভূমিকা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। মামলার এজাহারে জব্দকৃত পণ্যের সঙ্গে নিলামের কাগজের অসঙ্গতির কথা উল্লেখ থাকলেও, মালিক দাবিদার আব্দুস সাত্তার খান মিন্টুকে আটক করা হয়নি। বরং অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়। এতে পুলিশ বিভাগ ও স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, গভীর রাতে সোবহানীঘাট ফাঁড়ি সংলগ্ন এলাকায় ছিনতাইকারী ও চোরাকারবারিদের অবাধ চলাচল থাকলেও এ বিষয়ে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ দেখা যায় না। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।
এসব অভিযোগের বিষয়ে এসআই শিপলু চৌধুরীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে জনমনে এখন প্রশ্ন উঠেছে, অভিযোগগুলোর বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ কোনো ব্যবস্থা নেবে কি না।
২৫৭ বার পড়া হয়েছে