ঈদযাত্রায় ভোগান্তি নেই পাটুরিয়ায়, আছে অতিরিক্ত ভাড়ার ক্ষোভ
মঙ্গলবার, ২৬ মে, ২০২৬ ৯:১০ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
পবিত্র ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে ঘরমুখো মানুষের চাপ বেড়েছে। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ও কাটাগাড়ির সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে অতীত বছরের তুলনায় এবার পাটুরিয়া ঘাটে ফেরি পারাপারে কোনো ভোগান্তি বা দীর্ঘ যানজট না থাকায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা।
মঙ্গলবার (২৬ মে) ভোর থেকে বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রায় ২১ জেলার মানুষ নাড়ির টানে বাড়ির পথে যাত্রা শুরু করেন। মহাসড়কে নিয়মিত যানবাহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি, মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন রুটের কাটাগাড়ির চাপও বাড়তে দেখা যায়। যদিও কোথাও বড় ধরনের যানজট ছিল না, তবে কিছু এলাকায় ধীরগতির কারণে সাময়িক ভোগান্তি দেখা গেছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পাটুরিয়া ঘাটে আসা যানবাহনগুলোকে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়নি। ঘাটে পৌঁছানোর পরপরই ফেরিতে উঠতে পারছেন যাত্রীরা। তবে স্বস্তির এই যাত্রায় পরিবহনগুলোতে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন অনেক যাত্রী।
লালন পরিবহনের যাত্রী কাজী সৌরভ বলেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ করতে বাড়ি যাচ্ছেন তিনি। অন্য বছরের তুলনায় এবারের যাত্রা অনেক স্বস্তিদায়ক হলেও কিছু কিছু স্থানে যানবাহনের ধীরগতি ছিল।
নীলাচল পরিবহনের যাত্রী আহমান খান জানান, তিনি রাজবাড়ী যাচ্ছেন। সাভার থেকে গাড়িতে উঠলেও স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ভাড়া গুনতে হয়েছে তাকে। গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রয়োজনেই বাড়তি ভাড়া দিয়ে যাত্রা করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে মোটরসাইকেলে কুষ্টিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হওয়া মিনহাজ আহমেদ বলেন, মোটরসাইকেলে বাড়ি যাওয়ার আলাদা আনন্দ রয়েছে। নিজের সুবিধামতো থামা ও চলাচলের স্বাধীনতা থাকায় এই যাত্রা তার কাছে স্বস্তিদায়ক মনে হয়েছে। কোথাও বড় যানজট না থাকায় দ্রুতই ফেরিতে উঠতে পেরেছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে কয়েকজন কাটাগাড়ির চালক ও হেলপার দাবি করেন, যাত্রী নিয়ে পাটুরিয়া ঘাটে গেলেও ফেরার পথে খালি ফিরতে হয়। এ কারণেই কিছু অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। তবে যাত্রীরা অনেক সময় অতিরঞ্জিত অভিযোগ করেন বলেও মন্তব্য তাদের।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত ডিজিএম আব্দুস সালাম বলেন, ঈদ উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষ ও যানবাহন পারাপারে পর্যাপ্ত সংখ্যক ফেরি চলাচল করছে। ফলে ঘাট এলাকায় কোনো ভোগান্তি ছাড়াই যাত্রীরা পদ্মা নদী পার হতে পারছেন।
গোলড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দেওয়ান কউশিক আহমেদ বলেন, সকাল থেকে মহাসড়কে যানবাহনের চাপ বেড়েছে। তবে এখন পর্যন্ত অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। মহাসড়কে শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অতিরিক্ত ভাড়া আদায় প্রতিরোধে পুলিশ কাজ করছে বলেও জানান তিনি।
১৫৯ বার পড়া হয়েছে