নরসিংদীতে প্রতিষ্ঠানের ভেতর ব্যবসায়ীকে গলা কেটে হত্যা
রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬ ২:১২ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
নরসিংদীর রায়পুরায় একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে ঢুকে রফিকুল ইসলাম মুন্সি (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীকে অত্যন্ত নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা।
শনিবার (২৪ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট সংলগ্ন ‘ভাই ভাই স্টোর’-এ এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিকুল ইসলাম মুন্সি হাঁটুভাঙ্গা এলাকার সাহারাজ খলিফার ছেলে। তিনি স্থানীয় হাঁটুভাঙ্গা রেলগেট এলাকায় স্যানিটারি, টাইলস ও হার্ডওয়্যার পণ্যের ব্যবসা করতেন। জানা গেছে, নিহতের বাড়িটি তার দোকান থেকে মাত্র ৫০০ গজ দূরে অবস্থিত।
পারিবারিক ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রফিকুল ইসলাম প্রতিদিন রাত সাড়ে ৮টা থেকে ৯টার মধ্যে দোকান বন্ধ করে বাড়িতে ফিরতেন। তবে শনিবার রাত ১০টা পেরিয়ে গেলেও তিনি ঘরে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা চরম দুশ্চিন্তায় পড়েন। তার মুঠোফোনে বারবার কল করা হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
একপর্যায়ে স্বজনরা খোঁজাখুঁজি করতে দোকানে গিয়ে দেখেন, দোকানের শাটার নামানো থাকলেও তা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ছিল না। এরপর শাটার তুলে ভেতরে প্রবেশ করতেই দোকানের মেঝেতে রফিকুলের রক্তাক্ত ও নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন তারা। পরিবারের সদস্যদের আর্তচিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন এবং তাৎক্ষণিকভাবে থানায় খবর দেওয়া হয়।
খবর পেয়ে রায়পুরা থানা পুলিশ রাত সাড়ে ১০টার দিকে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।
সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি শেষে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ নরসিংদী সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, নিহতের গলাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের গভীর আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে দোকানের মেঝে ভেসে গিয়েছিল।
রবিবার (২৫ মে) সকালে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)-এর একটি বিশেষ ক্রাইমসিন ইউনিট ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো এলাকায় গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে।
রায়পুরা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) প্রবীর কুমার ঘোষ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান: "খবর পাওয়ার পরপরই আমরা ঘটনাস্থলে ছুটে যাই এবং নিহতের রক্তাক্ত মরদেহ দোকানের গোডাউন থেকে উদ্ধার করি। মরদেহে একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ইতোমধ্যে সিআইডি ক্রাইমসিন ইউনিট আলামত সংগ্রহ করেছে। আমরা আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা নিবিড়ভাবে বিশ্লেষণ করছি। আশা করছি, খুব দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে।"
১১৯ বার পড়া হয়েছে