সর্বশেষ

সারাদেশ

প্রক্সি হাজিরায় কারাভোগ, জামিনের পর জালিয়াতি মামলায় আবারও গ্রেপ্তার

শামীম মিয়া, নরসিংদী
শামীম মিয়া, নরসিংদী

মঙ্গলবার, ১৯ মে, ২০২৬ ১:০০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
নরসিংদীতে অন্য এক আসামির পক্ষে প্রক্সি হাজিরা দিতে গিয়ে এক মাস ছয় দিন কারাভোগের পর জামিন পেয়েছেন হারুন মিয়া।

তবে মুক্তির পরপরই জালিয়াতি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে তাকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৮ মে) নরসিংদীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান হারুন মিয়াকে জামিন দেন। একই সঙ্গে অন্য ব্যক্তির পরিচয়ে আদালতে হাজির হওয়ার ঘটনায় তার বিরুদ্ধে জালিয়াতি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মামলা করার নির্দেশ দেন আদালত।

মঙ্গলবার (১৯ মে) সকালে নরসিংদী জেলা কারাগার থেকে মুক্তির পর সদর থানা পুলিশ তাকে জেলগেট থেকেই পুনরায় গ্রেপ্তার করে।

আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালে রায়পুরা থানায় দায়ের করা একটি মানবপাচার মামলায় গত ১২ এপ্রিল আদালতে আত্মসমর্পণ করেন রায়পুরা উপজেলার মাহমুদনগর এলাকার জামির, সেলিম ও ফাতেমা। পরে তারা জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

পরবর্তীতে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতকে জানায়, সেলিম পরিচয়ে কারাগারে থাকা ব্যক্তি প্রকৃত সেলিম নন; তার আসল নাম হারুন মিয়া। তিনি একই উপজেলার সামসু মিয়ার ছেলে। অভিযোগ রয়েছে, অর্থের বিনিময়ে তিনি সেলিম মিয়ার পক্ষে আদালতে প্রক্সি হাজিরা দিতে এসেছিলেন।

ঘটনাটি আদালতের নজরে এলে আদালতপাড়ায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে প্রকৃত আসামি সেলিম মিয়া আদালতে হাজির হলে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে হারুন মিয়ার বিরুদ্ধে পৃথকভাবে জালিয়াতি ও আদালতকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেয় আদালত।

গ্রেপ্তারের পর হারুন মিয়া দাবি করেন, তার শ্যালক জামির তাকে ভুল তথ্য দিয়ে আদালতে নিয়ে আসেন। তিনি বলেন, তাকে কেন আদালতে আনা হয়েছে সে বিষয়ে তিনি কিছু জানতেন না। আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ায় তাকে সেলিম মনে করে কারাগারে পাঠানো হয়। তিনি আদালতের কাছে মুক্তি চান।

এদিকে, ভুয়া আসামি দিয়ে আদালতে হাজিরার ঘটনায় আইনজীবীদের মধ্যেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি অ্যাডভোকেট শিরীন আক্তার শেলী বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে আসে। পরে আদালতের কাছে পরিচয় নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়। আদালতের নির্দেশে পুলিশ প্রকৃত পরিচয় উদঘাটন করে। তিনি বলেন, একজনের পরিবর্তে অন্যজন সাজা ভোগ করবে—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় কোনো আইনজীবীর গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হবে।

নরসিংদী জেলা কারাগারের সুপার মো. তারেক কামাল জানান, আদালত থেকে বন্দিকে কারাগারে আনার পর ওয়ারেন্ট অনুযায়ী তার নাম-ঠিকানা এন্ট্রি করা হয় সেলিম মিয়া, পিতা জসিম উদ্দিন হিসেবে। তবে ওই ব্যক্তি দাবি করেন, তার প্রকৃত নাম হারুন মিয়া এবং তার পিতার নাম সামসু মিয়া। পরে বন্দির দেওয়া তথ্য যাচাই করে দেখা যায়, ওয়ারেন্টে উল্লেখিত নাম ও বন্দির দাবিকৃত পরিচয়ের মধ্যে অসঙ্গতি রয়েছে।

তিনি জানান, এ বিষয়ে আদালতকে অবহিত করার জন্য এবং নাম-ঠিকানা সংশোধনের অনুরোধ জানিয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। পরবর্তীতে এ ঘটনায় ‘প্রক্সি’ বা অন্য কাউকে সাজা ভোগের জন্য পাঠানোর বিষয়টিও সামনে আসতে পারে।

১২৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন