যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যাচেষ্টা: স্বামীর ১২ বছরের কারাদণ্ড
সোমবার, ১৮ মে, ২০২৬ ৩:০৪ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে নির্মম নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলায় নুরজামাল মিয়া নামে এক ব্যক্তিকে ১২ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। জরিমানার অর্থ অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাভোগ করতে হবে।
রোববার দুপুরে ফরিদপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা ও দায়রা জজ শামীমা পারভীন এ রায় ঘোষণা করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, সদরপুর উপজেলার টেউখালী গ্রামের বাসিন্দা নুরজামাল মিয়ার সঙ্গে প্রায় আট বছর আগে একই এলাকার মুর্শিদা বেগমের দ্বিতীয় বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে স্ত্রীর ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতেন নুরজামাল।
মামলার নথিতে উল্লেখ করা হয়, নুরজামাল মাদকাসক্ত ছিলেন এবং প্রায়ই স্ত্রীর বাবার বাড়ি থেকে টাকা এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এর আগে কয়েক দফায় ভুক্তভোগীর পরিবার প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা দিলেও নির্যাতন থামেনি।
২০২৩ সালের ২৪ মে রাতে আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে স্ত্রীকে মারধর করেন নুরজামাল। একপর্যায়ে তাকে ঘরের ভেতর আটকে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়। পরে মৃত ভেবে মুর্শিদা বেগমকে টয়লেটের সেপটিক ট্যাংকে ফেলে রেখে পালিয়ে যান তিনি।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় মুর্শিদা বেগমকে উদ্ধার করে সদরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ফরিদপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগীর বাবা ফজলু মোল্লা সদরপুর থানায় নির্যাতন ও হত্যাচেষ্টার মামলা দায়ের করেন। তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।
দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় নুরজামাল মিয়াকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রাব্বানী রতন বলেন, “যৌতুকের দাবিতে নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে। আদালত সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আসামিকে দণ্ড দিয়েছেন।”
১২৭ বার পড়া হয়েছে