মেগা প্রকল্পের নামে প্রায় ত্রিশ লাখ কোটি টাকা পাচার হয়েছে: সেতুমন্ত্রী
সোমবার, ১১ মে, ২০২৬ ১০:৪৮ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মেগা প্রকল্পের নামে লুটপাট হয়েছে এবং প্রায় ত্রিশ লক্ষ কোটি টাকা পাচার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিশ লক্ষ কোটি টাকার ওপরে বৈদেশিক ঋণ রেখে দেয়া হয়েছে, যার মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হচ্ছে।
সোমবার দুপুর ১২টায় পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্তে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় সেতু বিভাগের বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন এবং পদ্মা সেতু জাদুঘর নির্মাণ কাজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সুধী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, ১৬টি মেগা প্রকল্পের অর্থ ব্যয় হয়ে গেছে, কিন্তু কাজ হয়নি। কিছু ঠিকাদার পালিয়ে গেছে, ফলে কাজ শুরু করা যাচ্ছে না। একইসাথে বিদেশি দাতা সংস্থাগুলো, যারা বড় প্রকল্পে সহযোগিতা করতো, তারা এখন অনীহা প্রকাশ করছে।
তিনি দাবি করেন, গত ১৮ বছরে শরীয়তপুরে প্রত্যাশিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। তবে বৃহত্তর ফরিদপুর, বিশেষ করে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, গোপালগঞ্জ এবং ফরিদপুরে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে—এমন ধারণা আগে থাকলেও বাস্তবে এখন দেখা যাচ্ছে সড়কগুলো অকেজো হয়ে পড়েছে এবং চলাচলের অনুপযোগী হয়ে গেছে। এর মাধ্যমে ওই এলাকায় উন্নয়নের নামে দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিনেও নাওডোবা থেকে শরীয়তপুর সদর পর্যন্ত একটি সড়কের নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়নি, আংশিকভাবে কাজ হয়েছে। তবে খুব স্বল্প সময়ের মধ্যে এই সড়কটি সম্পন্ন করা হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন। পাশাপাশি শরীয়তপুর অংশে একটি রেলস্টেশন নির্মাণের কথাও উল্লেখ করেন।
পদ্মা সেতুর বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০০২ থেকে ২০০৫ সালে পদ্মা সেতুর ফিজিবিলিটি স্টাডি হয়েছিল এবং মাওয়াতে এলাইনমেন্ট নির্ধারণ করা হয়েছিল দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি নিয়ে তিনি বলেন, গাছ লাগালেই দায়িত্ব শেষ হয় না, এগুলোর পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে। আজ গাছ লাগিয়ে এক বছর পর যদি তা না থাকে, তাহলে সেই উদ্যোগের কোনো অর্থ থাকে না।
সেতু বিভাগের নির্বাহী পরিচালক ও সচিব মোহাম্মদ আবদুর রউফের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান, শরীয়তপুর-০১ আসনের সংসদ সদস্য সাঈদ আহমেদ আসলাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক একেএম নাসিরউদ্দিন সরদার, জেলা প্রশাসক তাহসিনা বেগম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) শেখ শরীফ-উজ-জামানসহ অন্যান্যরা।
১২৩ বার পড়া হয়েছে