সর্বশেষ

সারাদেশ

৫ জনেরই দাফন সম্পন্ন, স্বজনদের আহাজারিতে ভারী পরিবেশ

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

রবিবার, ১০ মে, ২০২৬ ১১:২০ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ভোর তখন প্রায় ৬টা। সকল আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুইটি অ্যাম্বুলেন্সে করে পাঁচজনের মরদেহ পৌঁছায় গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের উত্তরপাড়া গ্রামের ফকিরবাড়িতে।

একে একে অ্যাম্বুলেন্স থেকে নামানো হয় পাঁচটি নিথর দেহ। এ সময় পরিবার-পরিজন ও স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।

গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে শনিবার রাতে মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে গাজীপুর জেলা প্রশাসনের ব্যবস্থাপনায় মরদেহগুলো গোপালগঞ্জে পাঠানো হয়।

রবিবার সকালে ফকিরবাড়ি গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে উত্তর চরপাড়া গ্রামের বাড়ির সামনের ছোট সড়কে দাঁড়িয়ে আছে মরদেহবাহী দুইটি অ্যাম্বুলেন্স। মাত্র ছয় মাস আগেও যে বাড়ির উঠান ও পাশের বাগানে খেলাধুলা করত তিন শিশু, সেই বাগানেই মা ও মামার সঙ্গে তাদের গোসল করানো হয়। পাশের মেহগনি বাগানে পৃথক দুটি মশারি টানিয়ে নারী ও পুরুষদের মরদেহ গোসলের ব্যবস্থা করা হয়।

নিহতদের শেষবারের মতো দেখতে ফকিরবাড়িতে ভিড় করেন আত্মীয়-স্বজন ও গ্রামবাসী। একই পরিবারের পাঁচজনের এমন মর্মান্তিক মৃত্যু এর আগে দেখেননি স্থানীয়রা। অনেকেই চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি, কেউ কেউ বিলাপ করে কেঁদেছেন। হৃদয়বিদারক এ ঘটনায় পুরো গ্রামজুড়ে নেমে আসে শোকের ছায়া।

গোসল শেষে বেলা ১১টার দিকে পাইককান্দি পঞ্চপল্লী মাদ্রাসা মাঠে নিহতদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে সাড়ে ১১টার দিকে উত্তর চরপাড়া কবরস্থানে সারিবদ্ধ পাঁচটি কবরে তাদের দাফন সম্পন্ন করা হয়।

এ ঘটনায় নিহত শারমিন আক্তারের স্বামী ফোরকান মিয়ার নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও তিন থেকে চারজনকে আসামি করে কাপাসিয়া থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেছেন শাহাদাত হোসেন। ফোরকান গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার পর থেকেই তিনি পলাতক রয়েছেন। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ দুইজনকে আটক করেছে, তবে তাদের পরিচয় জানানো হয়নি।

নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের দাবি, এ হত্যাকাণ্ড ফোরকান একা ঘটাতে পারেননি। এর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত থাকতে পারে। তাই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকলকে গ্রেপ্তার করে সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা।

বাড়িতে আহাজারি করছিলেন নিহত শারমিনের মা ফিরোজা বেগম ও বড় বোন ফাতেমা বেগম। ফাতেমা বেগম জানান, তিনি গাজীপুরে থাকেন। শারমিন প্রায় ১০ থেকে ১৫ দিন পরপর তার বাসায় বেড়াতে যেতেন। তখন তিনি স্বামীর আচরণ নিয়ে নানা কষ্টের কথা বলতেন। ফোরকান অত্যন্ত সন্দেহপ্রবণ ছিলেন এবং শারমিনকে মোবাইল ফোন পর্যন্ত ব্যবহার করতে দিতেন না। সংসারে অশান্তি থাকলেও সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে সবকিছু সহ্য করতেন শারমিন।

নিহত শারমিন আক্তার ও রসুলের মা ফিরোজা বেগম ঘটনার পর থেকে প্রায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। দুই সন্তান ও তিন নাতনির মৃত্যুতে তিনি শোকে ভেঙে পড়েছেন। এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

নিহতদের বাবা শাহাদাৎ মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, গত এক বছর ধরে ফোরকান তার মেয়ের ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন এবং যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করতেন। এ কারণে শারমিন বাবার বাড়িতে চলে এসেছিলেন। তিনি আরও দাবি করেন, ফোরকানের পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং তিনি মাদকাসক্ত ছিলেন। শাহাদাৎ মোল্লার অভিযোগ, ফোরকান তার ছেলে, মেয়ে ও নাতনিদের ঘুমের ওষুধ খাইয়ে গলা কেটে হত্যা করেছেন। এ ঘটনায় জড়িত সকলের ফাঁসি দাবি করেন তিনি।

গোপালগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মোহাম্মদ জিয়াউল হক বলেন, ঘটনাটি গাজীপুরে ঘটলেও এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও চাঞ্চল্যকর একটি হত্যাকাণ্ড। মূল আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ কাজ করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ফোরকান মোল্লাসহ জড়িত অন্যদেরও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

উল্লেখ্য, শনিবার ভোরে গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে ফোরকান মোল্লার বাড়িতে একই পরিবারের পাঁচজনকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা প্রকাশ্যে আসে। নিহতরা হলেন— গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার পাইককান্দি ইউনিয়নের উত্তর চরপাড়া গ্রামের শাহাদাৎ মোল্লার মেয়ে শারমিন আক্তার (৩৫), ছেলে রসুল মোল্লা (১৯), শারমিনের তিন মেয়ে মীম আক্তার (১৪), হাবিবা (১০) ও ফারিয়া (২)।

১২৩ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন