সর্বশেষ

সারাদেশ

শত কোটি টাকার যন্ত্রপাতি মরিচায় নষ্ট হচ্ছে কুষ্টিয়া সুগার মিলে, বন্ধ উৎপাদনে লোকসানের পাহাড়

স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া
স্টাফ রিপোর্টার, কুষ্টিয়া

বৃহস্পতিবার , ৭ মে, ২০২৬ ৪:২৫ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী কুষ্টিয়া সুগার মিল দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় প্রতিষ্ঠানটির প্রায় শত কোটি টাকার মূল্যবান যন্ত্রপাতি ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ১৯৬৫-৬৬ অর্থবছরে যাত্রা শুরু করা এই চিনিকলটি শুরুতে লাভজনক হলেও নব্বই দশকের পর থেকে ধারাবাহিকভাবে লোকসানের মুখে পড়ে।

সবশেষ ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫৭ কোটি ৫৬ লাখ টাকা লোকসানের পর মিলটির মাড়াই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে টানা চার বছর উৎপাদন বন্ধ থাকায় মিলের ভেতরে থাকা ভারী যন্ত্রাংশগুলো রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে মরিচা ধরে নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতে পড়েছে।

প্রতিষ্ঠান সূত্রে জানা যায়, বন্ধ হওয়ার সময় পর্যন্ত মিলটির মোট পুঞ্জীভূত লোকসান দাঁড়ায় প্রায় ৬০৬ কোটি টাকায়। উৎপাদন বন্ধ থাকলেও বর্তমানে ৭৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত আছেন, যাদের বেতন-ভাতা বাবদ প্রতি মাসে প্রায় ২৫ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে। বাস্তবে কাজ না থাকায় অধিকাংশ সময়ই তারা অলস সময় কাটান বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে, মিলের ২২০ একর জমির কিছু অংশ ও পুকুর লিজ দিয়ে বছরে মাত্র ২৭ লাখ টাকার মতো আয় হচ্ছে, যা পরিচালন ব্যয়ের তুলনায় অত্যন্ত নগণ্য।

শ্রমিকদের বকেয়া বেতনও বড় সংকটে পরিণত হয়েছে। প্রায় ২০২ জন শ্রমিক-কর্মচারীর কাছে মিলটির দেনা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৩ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। অনেক অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে ২০২১ সালে মিলের গোডাউন থেকে ৫২.৭ টন চিনি গায়েব হওয়ার ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন মামলা করে, যা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়।

দীর্ঘদিন অব্যবহারের কারণে যন্ত্রপাতি দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন। নিয়মিত তেল-গ্রিজ না দিলে এসব যন্ত্রাংশের বড় অংশ অচল হয়ে পড়তে পারে।

অন্যদিকে আখ চাষে কৃষকদের আগ্রহও কমে গেছে। কম ফলন, দীর্ঘ উৎপাদন সময় এবং সরকারি প্রণোদনার সীমাবদ্ধতার কারণে চাষিরা বিকল্প ফসলের দিকে ঝুঁকছেন।

মিল পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে শ্রমিক ও স্থানীয় সংগঠনগুলো আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে। তবে কর্তৃপক্ষ বলছে, মিল চালুর বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি এবং যন্ত্রপাতির বর্তমান অবস্থা বিস্তারিত যাচাই ছাড়া কিছু বলা সম্ভব নয়।

সব মিলিয়ে এক সময়ের সম্ভাবনাময় এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি এখন কার্যত অচল অবস্থায় পড়ে আছে, যার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা ক্রমেই বাড়ছে।

১১৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন