মাগুরার যুবককে গলাকেটে হত্যা, বন্ধু শহিদুলসহ ৫ জন আটক
বুধবার, ৬ মে, ২০২৬ ১১:৫২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মাগুরার মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের রবিউল ইসলাম (৩৫) নামের এক যুবককে তার বন্ধু ডেকে নিয়ে গিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে।
পরে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় নিহতের বন্ধু শহিদুল ইসলামসহ পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, নিহত রবিউল ইসলাম মহম্মদপুর উপজেলার সিন্দাইন গ্রামের বাসিন্দা এবং গোলাম সারোয়ারের ছেলে। তিনি পেশায় একজন পাওয়ার ট্রিলার চালক ছিলেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাত আনুমানিক ৮টার দিকে একটি সাদা মাইক্রোবাস ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার হাটখোলা গ্রামের বটতলা এলাকার একটি নির্জন স্থানে এসে থামে। পরে গাড়ি থেকে একটি বস্তা রাস্তার পাশে ফেলে দ্রুত চলে যাওয়ার চেষ্টা করে। বিষয়টি স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা এগিয়ে যায়। এ সময় মাইক্রোবাসটি পালানোর চেষ্টা করলে এলাকাবাসী ধাওয়া দেয়। ধাওয়ার একপর্যায়ে গাড়িটি উল্টে যায়। তখন গাড়িতে থাকা কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা দুইজনকে আটক করে এবং বাকিরা পালিয়ে যায়।
পরে বস্তার মুখ খুলে স্থানীয়রা ভেতরে এক যুবকের মরদেহ দেখতে পান। মরদেহটির গলা কাটা ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং আটক দুইজনকে হেফাজতে নেয়।
নিহতের বাবা গোলাম সারোয়ার জানান, মঙ্গলবার দুপুরে একই গ্রামের হাফেজ মোল্যার ছেলে ও রবিউলের বন্ধু শহিদুল ইসলাম তাকে ডেকে বোয়ালমারীর হাটখোলা গ্রামে তার জামাইয়ের বাড়িতে নিয়ে যায়। সেখানে একটি পাওনা মোটরসাইকেল নিয়ে শহিদুলের জামাইয়ের সঙ্গে রবিউলের কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তাকে ঘরের মধ্যে আটকে রাখা হয়। পরে শহিদুল তাকে রেখে চলে যায়। এরপর থেকে রবিউলের আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। তার অভিযোগ, শহিদুল ইসলাম ও তার জামাই শহিদুল মাতুব্বর পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।
এ ঘটনায় আটক পাঁচজন হলেন—ফরিদপুর জেলার বোয়ালমারী উপজেলার আন্দারকোঠা গ্রামের শাহাজাদা, একই উপজেলার পঙ্কজ সাহার ছেলে তপু সাহা, রবিউলের বন্ধু শহিদুল ইসলাম, শহিদুলের চাচা হানিফ এবং জামাই শহিদুল মাতুব্বর।
ঘটনাটি এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
বোয়ালমারী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে এবং হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনের চেষ্টা চলছে।
১২৫ বার পড়া হয়েছে