বেনজীরের জামিন বাতিলে দুবাইয়ে আইনজীবী নিয়োগ হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬ ১:৪২ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের একটি আদালত থেকে শর্তসাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তাঁর জামিন বাতিলের জন্য বাংলাদেশ সরকার দুবাইয়ে একটি আইনজীবী প্রতিষ্ঠান নিয়োগ করেছে বলেও জানান তিনি।
রাজশাহী পুলিশ লাইনসে রোববার বিকেলে রাজশাহী রেঞ্জ ও মহানগর পুলিশের সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের জামিনের বিষয়ে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি বিষয়টি সভাস্থলেই জানতে পারেন। এরপর স্বরাষ্ট্রসচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং দুবাইয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, কয়েক দিন আগেই এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নিতে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করা হয়েছে। ওই প্রতিষ্ঠানকে বেনজীর আহমেদের জামিন বাতিলের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, বেনজীর আহমেদকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ না করার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। জামিন আদেশের সত্যায়িত কপি সংগ্রহের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকারের পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বেনজীর আহমেদ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সেখানে গেছেন এবং সরকারও আইনগতভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করছে। জামিন বাতিল করে তাঁকে দেশে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে।
এর আগে সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমির প্যারেড গ্রাউন্ডে ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের প্রথম পর্যায়ের সমাপনী কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। পরে তিনি প্রশিক্ষণে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী সদস্যদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠানে পুলিশকে কোনো দল বা গোষ্ঠীর লাঠিয়াল বাহিনী নয় উল্লেখ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানবিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে পুলিশকে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
বেনজীর আহমদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশের পুলিশপ্রধানের দায়িত্ব পালন করেন। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) মহাপরিচালক ছিলেন।
২০২১ সালে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র্যাবের কয়েকজন সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই তালিকায় বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।
২০২৪ সালে তাঁর ও পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য প্রকাশের পর দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অনুসন্ধান শুরু করে। পরে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা হয় এবং আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাঁর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকরের আদেশ দেওয়া হয়।
দুদক ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বেনজীর আহমেদ, তাঁর স্ত্রী ও দুই মেয়ের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং সম্পদের তথ্য গোপনের অভিযোগে পৃথক মামলা করে।
১১৮ বার পড়া হয়েছে