সর্বশেষ

সারাদেশ

ত্রিশালের পোড়াবাড়ী বাজারে সেতু নির্মাণ আটকে, ভোগান্তি চরমে

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 

শনিবার, ২ মে, ২০২৬ ৭:১৪ পূর্বাহ্ন

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের ত্রিশাল উপজেলার পোড়াবাড়ী বাজার এলাকায় খিরু নদীর ওপর দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ পুরোনো বেইলি সেতু দিয়ে চলাচল করতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয়রা।

নতুন সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় তা দীর্ঘদিন ধরে থমকে আছে। ফলে সেতুর অপেক্ষা শেষ না হয়ে বরং দুর্ভোগ ও অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে।

জানা গেছে, নতুন সেতু নির্মাণ প্রকল্পের জন্য প্রায় সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করতে হবে। তবে এ জমির মালিকদের সঙ্গে জটিলতার কারণে কার্যক্রম আটকে আছে। প্রতি শতাংশ জমির জন্য ২৫ লাখ টাকা মূল্য দাবি করা হয়েছে। ওয়ারিশসহ মোট ২০ থেকে ২২ জন ব্যক্তি এই জমির মালিক।

ফলে ২০২৩ সালের ২৬ আগস্ট সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও জমি অধিগ্রহণ জটিলতায় দুই দফা সময় বাড়িয়েও কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। এতে কমেনি স্থানীয়দের ভোগান্তি।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে পুরোনো বেইলি সেতুটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাজারো মানুষ এই সেতু পার হচ্ছেন। বিশেষ করে শিক্ষার্থী, কৃষক ও ছোট ব্যবসায়ীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন।

বিকল্প হিসেবে নির্মাণাধীন নতুন সেতুটি দ্রুত চালুর দাবি জানালেও সমস্যার সমাধান হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, খিরু নদীর এক পাশে ত্রিশাল উপজেলা এবং অন্য পাশে ফুলবাড়িয়া উপজেলা অবস্থিত। এই নদীর ওপর ১৯৮০-এর দশকে একটি বেইলি সেতু নির্মাণ করা হয়। দীর্ঘদিন ব্যবহারের ফলে এটি ধীরে ধীরে ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এই অবস্থায় ২০২২ সালে এলাকাবাসীর দাবির প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) পুরোনো সেতুর পাশেই নতুন একটি সেতু নির্মাণ শুরু করে। কিন্তু জমি অধিগ্রহণ জটিলতা নিরসন না হওয়ায় দেড় বছর ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে।

ফলে প্রতিদিন দুই উপজেলার লাখো মানুষ ঝুঁকি নিয়ে পুরোনো বেইলি সেতু পার হচ্ছেন। এতে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

স্থানীয় জামাল উদ্দিন বলেন, নদীর ওপর নড়বড়ে এই বেইলি সেতুই বর্তমানে একমাত্র ভরসা। ছোট ছোট যানবাহনসহ প্রতিদিন মানুষ এ সেতু দিয়ে চলাচল করছে। তবে সেতু পারাপারে সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন শিশু ও বয়োবৃদ্ধরা। তিন চাকার যানবাহন উঠলেই সেতু দুলতে থাকে এবং পাটাতন ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। তাই দ্রুত নতুন সেতু চালুর দাবি জানান তিনি।

মঠবাড়ী ইউনিয়ন উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী সুমাইয়া আক্তার বলেন, বেইলি সেতুতে উঠতে ভয় লাগে। মনে হয় যেকোনো সময় সেতু ভেঙে পড়ে যেতে পারে। তবুও আতঙ্ক নিয়েই প্রতিদিন স্কুলে যেতে হয়।

সাবেক ইউপি সদস্য আজহারুল ইসলাম বলেন, এই বেইলি সেতু দিয়েই ত্রিশাল পৌর শহরে যাতায়াত করতে হয়। বিকল্প পথে গেলে অনেকটা ঘুরে যেতে হয়, এতে সময় ও অর্থ দুটোই বেশি লাগে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীসহ সাধারণ মানুষের জন্য এটি একমাত্র সহজ পথ। দ্রুত নতুন সেতু চালুর জন্য বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি।

এলজিইডির ত্রিশাল উপজেলা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২২ সালে বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে প্রায় ৭০ মিটার দৈর্ঘ্যের একটি সেতু নির্মাণের প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ৮ কোটি ৬৮ লাখ টাকার এই প্রকল্পটি এমসিই-এমএলএম (জেভি) নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বাস্তবায়ন করছে।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক মকবুল হোসেন বলেন, প্রায় ১৯ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ প্রয়োজন। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই দ্রুত কাজ শেষ করা সম্ভব হবে।

এলজিইডির ত্রিশাল উপজেলা প্রকৌশলী যুবায়ের হোসেন বলেন, সেতুটির প্রায় ৭০ শতাংশ কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। জমির মালিকদের জমি, স্থাপনা ও গাছের মূল্য নির্ধারণের কাজ চলছে। বন বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো পরিমাপ করে প্রতিবেদন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। কার্যক্রম সম্পন্ন হলেই বাকি কাজ দ্রুত শেষ করা হবে এবং সেতুটি শিগগিরই চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

১১৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন