সর্বশেষ

সারাদেশ

শৈলকুপায় সাংবাদিককে থানায় আটকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর অভিযোগ

শামীম বিন সাত্তার
শামীম বিন সাত্তার

রবিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:০২ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ঝিনাইদহের শৈলকুপায় আশরাফুল ইসলাম (৩২) নামের এক সাংবাদিককে বাড়ি থেকে ডেকে এনে থানায় প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রাখার পর একটি হত্যা মামলায় অজ্ঞাত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়েছে পুলিশ।

পরে রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুর আড়াইটার দিকে তাকে আদালতে পাঠানো হয়। এর আগে শনিবার (২৬ এপ্রিল) রাত ১২টার দিকে উপজেলার গাড়াগঞ্জের বড়দা ব্রিজ এলাকা থেকে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুপুর ২টা পর্যন্ত শৈলকুপা থানায় আটক রাখা হয়।

পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় আটকে রাখার পর কোনো স্পষ্ট কারণ না জানিয়ে তাকে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তবে মামলার বাদী নিজেই জানিয়েছেন, ওই সাংবাদিককে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।

আশরাফুল ইসলাম ‘বাংলা এডিশন’-এর ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি এবং ঝিনাইদহ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি শৈলকুপা উপজেলার মাধবপুর গ্রামের আক্কাচ আলীর ছেলে। পুলিশ জানিয়েছে, তার বিরুদ্ধে পূর্বে কোনো মামলা ছিল না।

আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী শান্তা খাতুন বলেন, শনিবার রাত ১২টার দিকে শৈলকুপা থানার এসআই তরিকুল ইসলাম ফোন করে তাকে বড়দা ব্রিজ এলাকায় ডেকে নেন। পরে ওসি চা খাওয়ার কথা বলে থানায় নিয়ে আসেন। এরপর থেকে প্রায় ১৪ ঘণ্টা তাকে থানায় আটক রাখা হয়, তবে কোনো কারণ জানানো হয়নি।

তার বাবা আক্কাচ আলী বলেন, “আমার ছেলে একজন সংবাদকর্মী। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। তারপরও তাকে থানায় ১৪ ঘণ্টা আটকে রেখে হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। যে মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে, সেই মামলার বাদী আমার আপন চাচাতো ভাই।”

তিনি আরও বলেন, নিহত ব্যক্তি মোহন শেখ তার ছেলের চাচাতো দাদা ছিলেন। “আমার ছেলেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ফাঁসানো হচ্ছে,” বলে দাবি করেন তিনি।

মামলার বাদী হারুন অর রশিদ বলেন, গত ২৩ এপ্রিল সকালে তার বাবাকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় তিনি ৪২ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন। তবে তার দাবি, ওই মামলায় তার ভাতিজা আশরাফুল ইসলামের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।

তিনি বলেন, “আমার ভাতিজা সাংবাদিকতা করে, জেলা শহরে থাকে। সে হত্যাকাণ্ডে জড়িত নয়। তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।”

শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, একটি মামলার ঘটনায় সম্পৃক্ততার সন্দেহে আশরাফুল ইসলামকে আটক রাখা হয়েছিল। পরে তাকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার বিস্তারিত জানতে আদালতে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত ব্যক্তি ও সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের মধ্যে ঘনিষ্ঠ পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। মামলার এজাহারে তার নাম না থাকলেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো এবং বাদীর আপত্তির বিষয়টি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

এ ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা এটিকে “আইনের অপপ্রয়োগ” হিসেবে উল্লেখ করে নিন্দা জানিয়েছেন। তারা মনে করছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের মধ্যে এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। সাংবাদিক নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন মহল সাংবাদিক আশরাফুল ইসলামের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানিয়েছেন।

১৪৭ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন