দুদকের মামলায় সাবেক মেয়র রমজান আলী কারাগারে, জামিন নামঞ্জুর
বৃহস্পতিবার , ১৬ এপ্রিল, ২০২৬ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
মানিকগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মো. রমজান আলীকে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে মানিকগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক এস. কে. এম. তোফায়েল হাসান দুই পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।
মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৮ থেকে ১৯৯৯ সালের মধ্যে মানিকগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের দক্ষিণ পাশের জায়গা ভরাটের কাজ দেওয়া হয় মেসার্স মহুয়া কনস্ট্রাকশনের মালিক ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আমিরুল ইসলাম মট্টুকে। অভিযোগ রয়েছে, মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই তৎকালীন মেয়র রমজান আলী ওই কাজ একাধিকবার বর্ধিত করেন এবং ঠিকাদারের সঙ্গে যোগসাজশে পৌরসভার তহবিল থেকে ৪ লাখ ২২ হাজার ৭৮০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
এছাড়া ১৯৯৮ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত মানিকগঞ্জ কাঁচা বাজারের দক্ষিণ পাশের খাদ ভরাটের কাজও একই ঠিকাদারকে দেওয়া হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, পৌর কর্তৃপক্ষের আপত্তি উপেক্ষা করে অনুমোদন ছাড়া কাজ বাড়িয়ে আরও ৩ লাখ ২৫ হাজার ৩৩০ টাকা আত্মসাৎ করা হয়।
১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় ২০০৭ সালের ৩ মে দুর্নীতি দমন কমিশনের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ মানিকগঞ্জ সদর থানায় রমজান আলী ও আমিরুল ইসলাম মট্টুকে আসামি করে মামলা করেন।
অন্য একটি মামলায় অভিযোগ করা হয়, সাবেক মেয়র রমজান আলী ও তৎকালীন ৬ নম্বর ওয়ার্ড কমিশনার হামিদুর রশিদ কাজল ২০০৪ সালে পৌরসভার জিপ মেরামতের নামে দুটি চেকের মাধ্যমে এক লাখ টাকা অগ্রিম তুলে আত্মসাৎ করেন। পরে ২০০৬ সালে আরও এক লাখ টাকা উত্তোলন করে একইভাবে আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ এপ্রিল দুদকের সহকারী পরিচালক মো. আব্দুল মাজেদ আরেকটি মামলা দায়ের করেন।
দুদকের করা তিনটি মামলায় ইতোমধ্যে চার্জ গঠন করেছে আদালত। মামলাগুলোতে রমজান আলী, হামিদুর রশিদ কাজল, ইকবাল হোসেন এবং আমিরুল ইসলাম মট্টু অভিযুক্ত। তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ৩ ডিসেম্বর দুদকের সহকারী পরিচালক মো. নজরুল ইসলাম আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী এ. টি. এম. শাহজাহান বলেন, “মেয়র রমজান আলী আগে থেকেই জামিনে ছিলেন। অসুস্থতার কারণে তিনি আদালতে উপস্থিত হতে পারেননি। আজ উপস্থিত হয়ে তিনি জামিন আবেদন করলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আমরা পুনরায় জামিন আবেদন করব।”
অন্যদিকে দুদকের আইনজীবী দেওয়ান মিজানুর রহমান বলেন, “রমজান আলীর বিরুদ্ধে তিনটি মামলা চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি উচ্চ আদালতে স্থগিত আছে। বাকি দুটি মামলায় তিনি অনুপস্থিত থাকায় গত ১ ফেব্রুয়ারি তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়। আজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি জামিন চাইলে আদালত তা নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।”
১৪৮ বার পড়া হয়েছে