স্ত্রী হত্যার পর দেহাংশ নদীতে ফেলে দেওয়ার অভিযোগে স্বামী গ্রেপ্তার
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ৫:২৫ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
কক্সবাজারে স্ত্রীকে নির্মমভাবে হত্যা করে পরিচয় গোপনের উদ্দেশ্যে মরদেহ টুকরো করার ঘটনায় স্বামী সাইফুল ইসলাম তারেক (৩০) কে আটক করেছে পুলিশ। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার এবং দেহাংশ উদ্ধারে অভিযান চালানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) রাজধানীর শাহবাগ এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরবর্তীতে কক্সবাজারে নিয়ে এসে বুধবার (১৫ এপ্রিল) দিনব্যাপী ঘটনাস্থলে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ।
আটক সাইফুল ইসলাম তারেক মহেশখালী উপজেলার গোরকঘাটা ইউনিয়নের দাসি মাঝি পাড়া এলাকার নুরুল ইসলামের ছেলে। নিহত শাহিদা আক্তার রিপা ওরফে মুন্নি (২৯) একই উপজেলার চরপাড়া এলাকার আমান উল্লাহর মেয়ে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১১ এপ্রিল কক্সবাজার সদর উপজেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের জানারঘোনা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত ডোবা থেকে মস্তক ও দুই হাতের কব্জিবিহীন এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে নিখোঁজ সংক্রান্ত তথ্য ও স্বজনদের শনাক্তের মাধ্যমে মরদেহটি শাহিদা আক্তার রিপার বলে নিশ্চিত হওয়া যায়। এ ঘটনায় ১৩ এপ্রিল কক্সবাজার সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অভিযুক্ত তারেক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। তার ভাষ্যমতে, ২৬ মার্চ তিনি স্ত্রীকে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করেন। এরপর ছুরি দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন। পরিচয় গোপন করতে পরে মরদেহের মাথা ও দুই হাতের কব্জি বিচ্ছিন্ন করেন।
পুলিশ আরও জানায়, হত্যার একদিন পর দেহের অংশগুলো ঝিলংজা এলাকার একটি ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়। বিচ্ছিন্ন মাথা ও হাতের কব্জি কক্সবাজার সদর উপজেলার খুরুশকুল নতুন সেতু এলাকার কাছ থেকে বাঁকখালী নদীতে নিক্ষেপ করা হয়।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরি এবং ঘুমের ওষুধ মেশানো রসমালাইয়ের অবশিষ্টাংশও উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর মডেল থানার ওসি মো. ছমিউদ্দিন বলেন, আসামির স্বীকারোক্তি অনুযায়ী বাঁকখালী নদীতে নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি আইনগত প্রক্রিয়া চলমান আছে।
১৫৭ বার পড়া হয়েছে