কানাডার ফেডারেল রাজনীতিতে ইতিহাস গড়লেন সিলেটের ডলি বেগম
বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২৬ ১২:২৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার নাগরিক ডলি বেগম দেশটির ফেডারেল রাজনীতিতে প্রথমবারের মতো এমপি (সাংসদ) নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন।
টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে অনুষ্ঠিত উপনির্বাচনে তিনি বিজয়ী হন।
এই জয়ের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
কানাডায় স্থানীয় সময় সোমবার (১৩ এপ্রিল) তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ফেডারেল উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। এই উপনির্বাচনের আসনগুলো ছিল অন্টারিওর ইউনিভার্সিটি–রোসডেল ও স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট এবং কুইবেকের তেরেবোন।
ডলি বেগমের বাড়ি সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার মনু নদের পাড়ে। তার বাবা রাজা মিয়া এবং মা জবা বেগমের সঙ্গে তিনি মাত্র ১২ বছর বয়সে কানাডায় পাড়ি জমান। পরে তিনি টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন এবং লন্ডনের ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।
এই উপনির্বাচনের মধ্য দিয়ে ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি কানাডার সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠ সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে লিবারেলদের মাত্র একটি আসনে জয় প্রয়োজন ছিল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করার জন্য।
উপনির্বাচনের আগে সংসদে লিবারেল পার্টির আসন ছিল ১৭১টি। পরে কনজারভেটিভ পার্টির এমপি মেরিলিন গ্লাডু দল পরিবর্তন করে লিবারেল পার্টিতে যোগ দেওয়ায় দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়।
ডলি বেগমের জয়ের পর লিবারেল পার্টির আসন সংখ্যা দাঁড়ায় মোট ১৭৪টিতে।
অন্যদিকে, ডলি বেগম এর আগে অন্টারিও প্রাদেশিক পার্লামেন্টের সদস্য (এমপিপি) ছিলেন। গত বছর তিনি টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) থেকে তৃতীয়বারের মতো বিজয়ী হন। এর আগে তিনি ২০১৮ সালে প্রথম এবং ২০২২ সালে দ্বিতীয়বার এমপিপি নির্বাচিত হয়েছিলেন।
কানাডার তিন স্তরের সরকার ব্যবস্থায় কোনো আইনসভায় তিনিই প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিউ ডেমোক্র্যাট হিসেবে নির্বাচিত হন।
চলতি বছরের শুরুতে দীর্ঘদিন ধরে লিবারেলদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনটি সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের পদত্যাগের পর শূন্য হলে, ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টি ডলি বেগমকে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয়।
১৩৭ বার পড়া হয়েছে