সর্বশেষ

সারাদেশ

ময়মনসিংহে ফলের বাজারে আগুন: কেজিতে বেড়েছে ৫০ থেকে ২৫০ টাকা

আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 
আওলাদ রুবেল, ময়মনসিংহ 

শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের বিভিন্ন বাজারে সবজির দাম নিয়ে আলোচনা চললেও নীরবে চড়া রয়েছে ফলের বাজার।

পবিত্র রমজান শুরুর পর থেকেই প্রতি কেজি ফলে ৫০ থেকে আড়াইশ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। চাহিদা ও সরবরাহ স্বাভাবিক থাকার দাবি থাকলেও বাজারে সিন্ডিকেটের কারণে ফলের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে বলে অভিযোগ করছেন ক্রেতারা। তাদের দাবি, বাজারে যথাযথ মনিটরিং না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা রমজানকে পুঁজি করে অতিরিক্ত মুনাফা করছেন।

রমজান মাসে সারাদিন রোজা রাখার পর ইফতারে পুষ্টিকর খাবারের চাহিদা বাড়ে। বিশেষ করে দেশি-বিদেশি নানা ফলের পসরা দেখা যায় ফুটপাত ও দোকানগুলোতে। তবে চলতি বছর রমজানকে কেন্দ্র করে ফলের বাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে অনেক ফল।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের শুরুতেই দেশি ফলের দাম কেজিতে ৩০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। অন্যদিকে বিদেশি ফলের ক্ষেত্রে কোথাও কোথাও কেজিতে ২০০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য ফল কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।

ময়মনসিংহের নতুন বাজার, তাজমহল বাজার, চরপাড়া ও ব্রীজের মোড়সহ বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে— আপেল কেজি ৫০০ টাকা, কমলা ৪০০ টাকা, বড় সাইজের মাল্টা ৪০০ টাকা, গ্রিন আপেল ৪২০ টাকা, সবুজ আঙ্গুর ৪৬০ টাকা, পেয়ারা ৮০ থেকে ১০০ টাকা, বরই ১২০ টাকা, ডালিম ৮০০ টাকা। 

মেসে থাকা শিক্ষার্থী শফিকুর রহমান বলেন, পরিবার থেকে দূরে থেকে সহপাঠীদের সঙ্গে মেসে রমজান কাটাতে হচ্ছে। ইফতারের বেশিরভাগ আইটেম বাসায় রান্না করলেও ফল কিনতে গেলে দামের কারণে পিছিয়ে আসতে হয়। তিনি বলেন, “ফল কিনে খাব নাকি মেস ও পড়াশোনার খরচ চালাব—এই চিন্তায় এখন আর ফল খাওয়া হয় না।”

গৃহিণী রেহেনা বেগম জানান, বাচ্চারা ইফতারে ফল চাইলে তা জোগানো কঠিন হয়ে পড়ছে। স্বামীর সীমিত আয়ে প্রতিদিন ফল কেনা সম্ভব হচ্ছে না। তার ভাষায়, “সব ফলের দাম বেশি। মধ্যবিত্ত পরিবারের নাগালের বাইরে চলে গেছে।”

ময়মনসিংহ বাইপাস মোড়ের ফল আড়তদাররা জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে একটি চক্র কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে। নির্বাচনের কারণে বন্দর বন্ধ থাকায় বাইরে থেকে ফল আমদানি ব্যাহত হয়েছে। যেসব ফল এসেছে, তার কিছু অংশ মজুত করে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তারা। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে রমজানের শেষ দিকে দাম কিছুটা কমতে পারে বলেও আশা প্রকাশ করেন আড়তদাররা।

এ বিষয়ে ময়মনসিংহ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রিনা বেগম জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্য ও ফলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং করা হচ্ছে। খুচরা বিক্রেতারা আড়ত থেকে কত দামে ফল কিনছেন এবং কত লাভে বিক্রি করছেন—তার রশিদ যাচাই করা হচ্ছে। ক্রয়-বিক্রয়ের দামে অসঙ্গতি বা অতিরিক্ত মূল্য আদায়ের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, দেশে বছরে প্রায় ৩৮ ধরনের ফল আমদানি করা হয়। বার্ষিক ফলের চাহিদা প্রায় ৬ লাখ টন হলেও শুধু রমজান মাসেই এর চাহিদা ৯০ হাজার টনের বেশি থাকে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করেই বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়, যা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর তদারকি জরুরি।

২৫০ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন