চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত
মঙ্গলবার, ২৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ৫:৫৭ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা মঙ্গলবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা।
সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয় এবং বিভিন্ন জনগুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যা নিরসনে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশেষ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ, বাল্যবিবাহ বন্ধ এবং যৌতুক নির্মূলের বিষয়গুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
সভায় জানানো হয়, যুবসমাজকে মাদকের ভয়াবহতা থেকে রক্ষায় বিশেষ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। মাদক কেনাবেচা ও সেবন রোধে নিয়মিত অভিযান আরও জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পাশাপাশি পবিত্র রমজান মাসকে সামনে রেখে বাজার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও সক্রিয় করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। বাল্যবিবাহ ও যৌতুক প্রথা প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান জানানো হয়। এছাড়া চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে টহল পুলিশের কার্যক্রম বৃদ্ধির বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় জানানো হয়, সকল ইউনিয়ন পর্যায়ে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম সক্রিয় রয়েছে।
সভায় বক্তব্য দেন চুয়াডাঙ্গা সদর থানার অফিসার ইনচার্জ মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুন্দর, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। চুয়াডাঙ্গার মানুষ এ নির্বাচনে শৃঙ্খলার পরিচয় দিয়েছেন, ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালন করতে সক্ষম হয়েছে। তিনি জানান, গত জানুয়ারি মাসে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় ৩৯টি মামলা রুজু হয়, যার মধ্যে বেশ কিছু মামলা ইতোমধ্যে নিষ্পত্তি হয়েছে। একই সময়ে ৯টি মাদক মামলা দায়ের হয়েছে এবং মাদকের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। মাদক প্রতিরোধে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নয়, সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রিফাত আরা বলেন, একটি নিরাপদ ও সুন্দর উপজেলা গড়ে তুলতে হলে মাদক ও বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি দূর করতে হবে। তিনি জানান, গ্রাম পর্যায় থেকে বাল্যবিবাহের খবর খুব বেশি পাওয়া যায় না; তবে কোথাও এমন তথ্য পাওয়া গেলে সঙ্গে সঙ্গে ম্যাজিস্ট্রেট পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। তিনি আরও বলেন, চুয়াডাঙ্গায় আত্মহত্যার প্রবণতা তুলনামূলকভাবে বেশি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ প্রবণতা রোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি। মাদক ক্রয়-বিক্রয় ও সেবনের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও সচেতন ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আনসার ভিডিপি কর্মকর্তা শিমুল হাসান, সদর উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা পৌর বিএনপির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম মনি, ৪ নম্বর শংকরচন্দ্র ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মহিবুল হাসান সুজন, দর্শনা থানার পুলিশের উপপরিদর্শক আরিফ হাসানসহ বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
১৪৬ বার পড়া হয়েছে