তুরাগ সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ, মাঠে নেই সাদপন্থিরা
বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০২৪ ৯:১৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজধানীর কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা সেক্টর-১০ এবং তুরাগ নদের দক্ষিণ, পশ্চিম এলাকায় যে কোনো ধরনের সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ ইত্যাদি নিষিদ্ধ করেছে পুলিশ।
গাজীপুর মহানগরীর টঙ্গীতে বিশ্ব ইজতেমা শুরুর আগেই ময়দান দখলকে কেন্দ্র করে দুদলের মধ্যে চলমান সংঘর্ষের পর এ ঘোষণা দিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ কার্যকর থাকবে।
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনসের কর্মকর্তা মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এ তথ্য জানান।
এতে বলা হয়েছে, ‘সম্প্রতি উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় জনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স (অর্ডিন্যান্স নং- III/৭৬) এর ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে অদ্য ১৮ ডিসেম্বর বিকাল ২টা হতে কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুর, উত্তরা সেক্টর-১০ এবং তৎসংলগ্ন তুরাগ নদীর দক্ষিণ-পশ্চিম এলাকায় যে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা, বিক্ষোভ ইত্যাদি পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিষিদ্ধ করা হলো।’
এদিকে টঙ্গীর ইজতেমা ময়দানের দখল নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় কাকরাইল মসজিদ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে পুলিশ ও র্যাব। এ ছাড়া ঘটনাস্থলে সকাল থেকে চার প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে।
ইজতেমা মাঠ ছাড়ার সিদ্ধান্ত সাদপন্থিদের
মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীরা টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা বিশ্ব ইজতেমার মাঠ ছাড়ার পর সরকার ওই মাঠের দায়িত্ব নেবে।
আজ বুধবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে সরকারের পাঁচজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠকের পর সাদ অনুসারী মাওলানা রেজা আরিফ সাংবাদিকদের এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, বিশাল জনসংখ্যা নিয়ে তারা (জুবায়ের অনুসারী) মাঠের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আগে থেকে সেখানে আমাদের (সাদ অনুসারী) অনেক লোকজন জড়ো হয়েছেন। সরকারের অনুরোধে আমরা মাঠ ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যাতে কোনোরকম সমস্যা তৈরি না হয়।
মাঠ ছেড়ে দেওয়ার জন্য সাথী ভাইসহ সবাইকে অনুরোধ জানিয়ে রেজা আরিফ বলেন, মাঠ ছেড়ে দিয়ে আমরা কামারপাড়া রোড দিয়ে পশ্চিম পাশের মারকাজের কাছ দিয়ে যার যার মতো করে চলে যাব। কামারপাড়া দিয়ে বের হয়ে যাওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আমাদের সহযোগিতা করবে।
রেজা আরিফ বলেন, এখানে সিদ্ধান্ত হয়েছে সরকার মাঠের দায়িত্ব নিয়ে নেবে, কেউ মাঠে থাকবেন না।
টঙ্গীর তুরাগ তীরে বিশ্ব ইজতেমা ময়দান দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে হতাহতের পর মাওলানা সাদ কান্ধলভির অনুসারীদের নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, ভূমি উপদেষ্টা এ এফ হাসান আরিফ, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম, ধর্ম বিষয়ক উপদেষ্টা আ ক ম খালিদ হোসেন বৈঠক করেন।
এরপর জুবায়ের অনুসারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছেন উপদেষ্টারা। বৈঠকটি চলছে এখন।
সাদপন্থিদের নিষিদ্ধের দাবি জোবায়েরপন্থিদের
তাবলীগ জামাতের সাদপন্থিদের সন্ত্রাসী সংগঠন আখ্যা দিয়ে তাদের নিষিদ্ধের দাবি জানিয়েছেন জুবায়েরপন্থি আলেমরা। আজ বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাসহ সাতজন উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে ব্রিফিংয়ে মাওলানা মামুনুল হক এ দাবি জানান। ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জে. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন।
মাওলানা মামুনুল হক এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, জোবায়েরপন্থিদের ইজতেমা অবশ্যই হবে কিন্তু সাদপন্থিদের ইজতেমার আর কোনো সুযোগ নেই।
আগামীকাল বৃহস্পতিবার টঙ্গীর তুরাগতীর অভিমুখে যে লংমার্চ কর্মসূচি ছিল তা হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাকরাইলে মুরুব্বি আলেমদের সম্মেলন চলছে। সেখানে গিয়ে আলোচনার পর সিদ্ধান্ত জানানো যাবে।
২৮১ বার পড়া হয়েছে