সর্বশেষ

জাতীয়

গাজীপুর-ঢাকা বিআরটি প্রকল্প বাতিল, হবে ছয় লেনের সড়ক

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ৩:৪০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের অবকাঠামো সরিয়ে ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এ জন্য বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করা হবে। পাশাপাশি প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ক চার লেনে উন্নীত করা হবে। প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসিও বন্ধ করে এর কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের (সওজ) আওতায় নেওয়া হবে।

গাজীপুর থেকে রাজধানীর বিমানবন্দর পর্যন্ত বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। প্রকল্পের অবকাঠামো সরিয়ে বিদ্যমান সড়ককে দুই দিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়কে রূপান্তর করা হবে। একই সঙ্গে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

গত ১৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিআরটি প্রকল্পের ভবিষ্যৎ করণীয় নির্ধারণে এসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরদিন ১৯ অক্টোবর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেয়।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়েছে, বিআরটি করিডরের স্টেশন ও লেন বিভাজক অপসারণ করে দুই দিকে তিনটি করে মোট ছয় লেনের সাধারণ মহাসড়ক করা সমীচীন। এ ছাড়া প্রকল্পের আওতায় নির্মিত দুটি দুই লেনের উড়ালসড়ক চার লেনে উন্নীত করার কার্যক্রম নেওয়া যেতে পারে।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যমান আইনি জটিলতা নিরসনের মাধ্যমে প্রকল্পটি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা বাস র‍্যাপিড ট্রানজিট পিএলসি বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের আওতায় আনতে হবে।

মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে জরুরি ভিত্তিতে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোকে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন পাঠাতে বলা হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি মাসের ৩ তারিখের মধ্যে অগ্রগতি প্রতিবেদন দিতে হবে।

তবে ১৮ অক্টোবর মন্ত্রিসভার বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বিভিন্ন সিদ্ধান্তের কথা জানালেও বিআরটি প্রকল্পের বিষয়ে কিছু বলেননি।

গাজীপুরের শিববাড়ী থেকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত প্রায় ২০ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বিআরটি প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল রাজধানী ও গাজীপুরের মধ্যে দ্রুত বাস চলাচল নিশ্চিত করার লক্ষ্যে। ২০১২ সালের নভেম্বরে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়। তখন এর প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছিল ২ হাজার ৩৯ কোটি ৮৪ লাখ টাকা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০১৬ সালের মধ্যে নির্মাণকাজ শেষ করে বিআরটি চালু করার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ হয়নি। প্রকল্পের আওতায় বিআরটি লেন, স্টেশন, উড়ালসড়ক, টঙ্গী সেতু ও বাস ডিপোসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ভূমি অধিগ্রহণ, নকশা পরিবর্তন এবং বিভিন্ন সেবা সংস্থার লাইন স্থানান্তরসহ নানা জটিলতায় প্রকল্পের কাজ বাধাগ্রস্ত হয়। ২০১৮ সালে মাঠপর্যায়ে বড় পরিসরে নির্মাণকাজ শুরু হলেও দীর্ঘসূত্রতা কাটেনি।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ৪ হাজার ২৬৮ কোটি ৩২ লাখ টাকা, যা প্রাথমিক ব্যয়ের দ্বিগুণেরও বেশি। পরে ২০২৫ সালে প্রকল্পের ব্যয় আরও বাড়িয়ে ৬ হাজার ৫৯৭ কোটি টাকার বেশি এবং মেয়াদ ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছিল। তবে ওই বছরের ২৭ জুলাই একনেক প্রস্তাবটি অনুমোদন করেনি।

বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজের কারণে গাজীপুর, টঙ্গী ও বিমানবন্দর এলাকার সড়কে দীর্ঘদিন ধরে যানজট ও জনভোগান্তি ছিল। রাজধানী ও গাজীপুরের মধ্যে দ্রুত গণপরিবহনব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি নেওয়া হলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী তা পুরোপুরি চালু করা সম্ভব হয়নি।

দীর্ঘদিনের নির্মাণকাজ, ব্যয় বৃদ্ধি ও প্রকল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে শেষ পর্যন্ত বিআরটি অবকাঠামো সরিয়ে সাধারণ মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এখন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাধ্যমে প্রকল্প বন্ধ ও সড়ক রূপান্তরের পরবর্তী কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে।

১৭৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০