সর্বশেষ

জাতীয়

দুই বছরে ডেসকোর আধুনিকায়নে নতুন গতি

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ থেকে স্মার্ট গ্রিড ও আধুনিক প্রযুক্তিতে বদলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাপনা

বিশেষ প্রতিবেদক
বিশেষ প্রতিবেদক

শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ১১:৩৩ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
রাজধানীর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় আসছে বড় ধরনের পরিবর্তন। শুধু নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নয়, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সংযুক্তি, সিস্টেম লস কমানো, দ্রুত ত্রুটি শনাক্তকরণ, বৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহারের বিস্তার এবং গ্রাহকসেবাকে আরও আধুনিক করার লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (ডেসকো)।

গত দুই বছরে প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়নে নেওয়া হয়েছে একাধিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। কোথাও পরীক্ষামূলকভাবে ব্যবহার হচ্ছে ইন্টারনেট অব থিংস (IoT), কোথাও তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে আসছে Geofencing প্রযুক্তি। ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করে উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে দেওয়ার ব্যবস্থাও সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার নিয়ন্ত্রণ ও তদারকিতে SCADA এবং GIS ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, ২০৩১ সালের মধ্যে স্মার্ট গ্রিডে রূপান্তরের পরিকল্পনা, বস্তি এলাকায় বৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ, দক্ষ জনবল তৈরিতে প্রশিক্ষণ, গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদার এবং নিজস্ব ট্রান্সফরমার মেরামত ওয়ার্কশপ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেসকোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদ দায়িত্ব নেওয়ার পর বিদ্যমান কার্যক্রম পর্যালোচনা করে এসব উদ্যোগকে এগিয়ে নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে কিছু কার্যক্রম বাস্তবায়িত হয়েছে, আবার বেশ কিছু রয়েছে পরীক্ষামূলক বা বাস্তবায়নের বিভিন্ন পর্যায়ে।

বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তির নতুন অধ্যায়ঃ
বিদ্যুতের চাহিদা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বদলে যাচ্ছে বিতরণ ব্যবস্থার ধরনও। স্মার্ট মিটার, স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রণ, তথ্য বিশ্লেষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো প্রযুক্তি বিদ্যুৎ খাতকে নিয়ে যাচ্ছে নতুন বাস্তবতায়।

এই বাস্তবতায় ডেসকোর লক্ষ্য শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা নয়; বরং পুরো বিতরণ নেটওয়ার্ককে আরও তথ্যনির্ভর, স্বয়ংক্রিয় ও দক্ষ করে তোলা।

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, উদ্বৃত্ত যাবে গ্রিডেঃ
নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে ডেসকোর আওতাধীন এলাকায় ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বিভিন্ন বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে ভবনের ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে। গ্রাহক নিজের স্থাপনায় বিদ্যুৎ উৎপাদনের পাশাপাশি প্রয়োজনের অতিরিক্ত বিদ্যুৎ নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন।

এতে একদিকে গ্রাহকের বিদ্যুৎ ব্যয় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে, অন্যদিকে জাতীয় গ্রিডে নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের অংশ বাড়বে।

তবে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন করলেই দায়িত্ব শেষ হচ্ছে না। গ্রিডে নিরাপদভাবে এই বিদ্যুৎ যুক্ত করতে প্রয়োজন মিটারিং, সুরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রিড সংযোগ ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনার সমন্বিত সক্ষমতা। ডেসকো কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনায় এসব বিষয়ও গুরুত্ব পেয়েছে।

তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিংয়ে IoT:
রাজধানীতে তিন চাকার বৈদ্যুতিক যানবাহনের সংখ্যা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের চার্জিং ব্যবস্থাপনাও ডেসকোর জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

অননুমোদিত চার্জিং ও বিদ্যুতের অবৈধ ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে IoT-সংযুক্ত লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি ব্যবহারের মাধ্যমে চার্জিং কার্যক্রমকে একটি নিয়ন্ত্রিত কাঠামোর মধ্যে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গত ২৬ জুলাই এ ব্যবস্থার কার্যকারিতা যাচাইয়ে একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। পরীক্ষামূলক কার্যক্রম সফল হলে চার্জিং স্টেশনগুলোকে প্রযুক্তির আওতায় এনে নিয়মিত নজরদারি করা সম্ভব হবে।

পরিকল্পিত ব্যবস্থায় অ্যাপের মাধ্যমে ডেসকোর ড্যাশবোর্ড থেকে অফ-পিক সময়ে চার্জিংয়ের অনুমতি দেওয়া যাবে। ফলে কখন, কোথায় এবং কত বিদ্যুৎ ব্যবহার করে কোনো যান চার্জ হচ্ছে—এসব তথ্যও নজরদারির আওতায় আসবে।

এর ফলে অবৈধ বিদ্যুৎ ব্যবহার কমার পাশাপাশি বিদ্যুৎ ব্যবহারে স্বচ্ছতা ও রাজস্ব আদায়ের সুযোগ বাড়বে।

Geofencing-এ নিয়ন্ত্রণে আসবে যান চলাচলঃ
শুধু চার্জিং নয়, তিন চাকার যানবাহনের চলাচলও প্রযুক্তির মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নিয়েছে ডেসকো।

এ জন্য Geofencing প্রযুক্তির একটি পাইলট প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট এলাকার ডিজিটাল সীমা নির্ধারণ করে ওই এলাকায় কোনো যানবাহনের প্রবেশ বা চলাচল শনাক্ত করার সুযোগ তৈরি হবে।

প্রকল্পটি সফল হলে নির্ধারিত সড়ক ও মহাসড়কে অনাকাঙ্ক্ষিত তিন চাকার যানবাহনের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।

একই সঙ্গে যানবাহনের চলাচল, চার্জিং ও বিদ্যুৎ ব্যবহারের তথ্যকে একটি সমন্বিত ব্যবস্থায় আনার সুযোগ তৈরি হবে। এতে নজরদারি বাড়ার পাশাপাশি সড়ক ব্যবস্থাপনা ও নিরাপত্তায়ও সহায়ক ভূমিকা রাখার সম্ভাবনা রয়েছে।

বস্তিতেও বৈধ বিদ্যুতের আলো বিদ্যুৎ সেবার বাইরে থাকা জনগোষ্ঠীকে বৈধ ও নিরাপদ বিদ্যুৎ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগও নিয়েছে ডেসকো।

এর অংশ হিসেবে রাজধানীর করাইল বস্তিতে প্রিপেইড মিটার স্থাপনের কার্যক্রম চলছে। পর্যায়ক্রমে অন্যান্য বস্তি এলাকাতেও এ ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রিপেইড মিটারের ফলে গ্রাহক নিজের বিদ্যুৎ ব্যবহার ও ব্যয়ের ওপর সরাসরি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারবেন। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ ও অননুমোদিত বিদ্যুৎ ব্যবহারের প্রবণতা কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

কমবে সিস্টেম লস, বাড়বে নেটওয়ার্কের সক্ষমতাঃ
বিদ্যুৎ অপচয় কমাতেও নেওয়া হয়েছে একাধিক কারিগরি উদ্যোগ।
ডেসকোর সিস্টেম লস তুলনামূলকভাবে নিম্ন পর্যায়ে থাকলেও আরও দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে বিতরণ ট্রান্সফরমারের পর্যায়ে পৃথক মিটার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া অতিরিক্ত চাপযুক্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনগুলোকে বিভাজন করে নতুন লাইনে চাপ ভাগ করে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

এতে বিদ্যুৎ সরবরাহের ভারসাম্য বাড়বে, লাইনের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমবে এবং নেটওয়ার্কের নির্ভরযোগ্যতা বাড়ার পাশাপাশি সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করবে।

SCADA-GIS-এ বদলাবে তদারকি ব্যবস্থাঃ
বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার তদারকিতে SCADA এবং GIS ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও সমন্বিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এর মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণকক্ষ থেকেই বিদ্যুৎ সরবরাহ নেটওয়ার্কের বিভিন্ন অংশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। কোথায় ত্রুটি হয়েছে, কোন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে এবং কোন অংশে সমস্যা তৈরি হয়েছে—এসব তথ্য দ্রুত পাওয়া যাবে।
ফলে ত্রুটি শনাক্তকরণ থেকে মেরামত পর্যন্ত সময় কমানোর সুযোগ তৈরি হবে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী SCADA ও GIS-এর আধুনিকায়ন ও সমন্বয়ের কার্যক্রম ২০২৮ সালের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে।

২০৩১ সালে স্মার্ট গ্রিডের লক্ষ্য
ডেসকোর আধুনিকায়ন পরিকল্পনার সবচেয়ে বড় দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্যগুলোর একটি হলো স্মার্ট গ্রিড।

বিদ্যমান SCADA, GIS, স্মার্ট মিটার, যোগাযোগ নেটওয়ার্ক এবং স্বয়ংক্রিয় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে পর্যায়ক্রমে একীভূত করে স্মার্ট গ্রিড কাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
স্মার্ট গ্রিড চালু হলে বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থায় ত্রুটি দ্রুত শনাক্ত করা, দূর থেকে নেটওয়ার্ক পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ, স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরবরাহ ব্যবস্থা পরিবর্তন, বিদ্যুৎ বিভ্রাট ব্যবস্থাপনা এবং চাহিদা ব্যবস্থাপনার সক্ষমতা বাড়বে।

একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎসহ বিভিন্ন নবায়নযোগ্য উৎসের বিদ্যুৎ গ্রিডে যুক্ত করার সক্ষমতাও বাড়বে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩১ সালের মধ্যে ডেসকোকে পর্যায়ক্রমে পূর্ণাঙ্গ স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থায় রূপান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

বদলাচ্ছে জনবল কাঠামোঃ
প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দক্ষ জনবল তৈরিতেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য কারিগরি প্রশিক্ষণের পাশাপাশি ব্যবস্থাপনা, নেতৃত্ব, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, ক্রয় ব্যবস্থাপনা ও অন্যান্য প্রয়োজনভিত্তিক প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের ব্যবস্থাপনা দক্ষতা বাড়াতে বিভিন্ন প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর ধারাবাহিকতায় প্রকল্প ব্যবস্থাপনায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত PMP সনদ অর্জনের প্রস্তুতিমূলক প্রশিক্ষণও সম্পন্ন হয়েছে।

যোগ্যতার ভিত্তিতে পদোন্নতি ও পদায়নঃ
প্রতিষ্ঠানের দক্ষতা বাড়াতে চাকরি বিধিমালা অনুসরণ করে যোগ্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের শূন্য পদে পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেধা, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উপযুক্ত পদে পদায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গবেষণা ও উন্নয়নে নিজস্ব সক্ষমতাঃ
ডেসকোর নিজস্ব প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়াতে গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম জোরদারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব জ্ঞান, অভিজ্ঞতা ও অবকাঠামো ব্যবহার করে ভবিষ্যতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরামর্শক সেবা দেওয়ার সুযোগ তৈরি এবং পরিচালন-বহির্ভূত আয় বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে।

এর অংশ হিসেবে আধুনিক মিটার পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখানে ডেসকোর গ্রাহকদের পাশাপাশি প্রযোজ্য নিয়ম অনুসরণ করে অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের মিটার পরীক্ষার সুযোগও তৈরি হবে।

ট্রান্সফরমার মেরামতে নিজস্ব ওয়ার্কশপঃ
বিতরণ ট্রান্সফরমার বিকল হলে দ্রুত মেরামত করা না গেলে বিদ্যুৎ সরবরাহে বিঘ্ন বাড়ে। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে ট্রান্সফরমার মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণে নিজস্ব সক্ষমতা গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে ডেসকো।

আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন ট্রান্সফরমার মেরামত ওয়ার্কশপ স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র প্রস্তুত করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে দরপত্র ও ক্রয় কার্যক্রমের পরিকল্পনা রয়েছে।

প্রস্তাবিত ওয়ার্কশপে শুধু মেরামত নয়, ট্রান্সফরমার পরীক্ষা ও রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি ভবিষ্যতে প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার সংযোজন বা উৎপাদনের সক্ষমতাও তৈরির সুযোগ রাখা হচ্ছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০২৮ সালের মধ্যে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালুর লক্ষ্য রয়েছে।

বিল পরিশোধে গতি আনার উদ্যোগঃ
ডেসকোর উন্নয়ন কার্যক্রমে যুক্ত ঠিকাদার, পরামর্শক, উন্নয়ন সহযোগীসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিল যথাসময়ে পরিশোধের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রযোজ্য আইন, বিধি ও নীতিমালা অনুসরণ করে যাচাই-বাছাই শেষে অপ্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত জটিলতা কমিয়ে বিল নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ডেসকোর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, আর্থিক লেনদেনসহ সব কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য।

কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণেও নজরঃ
প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়নের পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কল্যাণেও নেওয়া হয়েছে বিভিন্ন উদ্যোগ।

প্রযোজ্য নীতিমালার আওতায় অসুস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের চিকিৎসা সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে ভালো ফলাফল অর্জনকারী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি, প্রণোদনা ও পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সামনে বড় পরীক্ষা বাস্তবায়নেরঃ
ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামীম আহমেদের সময়কালে গত দুই বছরে ডেসকোর নেওয়া উদ্যোগগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটির আধুনিকায়নের পরিকল্পনা শুধু বিদ্যুৎ সরবরাহ বাড়ানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বরং বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর, তথ্যভিত্তিক, দক্ষ ও ভবিষ্যৎ উপযোগী করে তোলার একটি সমন্বিত পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

ছাদে সৌরবিদ্যুৎ, IoT-ভিত্তিক চার্জিং, Geofencing, SCADA-GIS আধুনিকায়ন, স্মার্ট গ্রিড, সিস্টেম লস নিয়ন্ত্রণ, দক্ষ জনবল, গবেষণা ও উন্নয়ন এবং নিজস্ব ট্রান্সফরমার মেরামত ওয়ার্কশপ—সবকিছু মিলিয়ে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি রূপান্তরের ভিত্তি।

তবে পরিকল্পনার চেয়ে বড় বিষয় এখন বাস্তবায়ন। ২০২৮ সালের মধ্যে একাধিক অবকাঠামোগত উদ্যোগ এবং ২০৩১ সালের মধ্যে স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়নের লক্ষ্য পূরণে প্রয়োজন হবে সময়মতো প্রকল্প বাস্তবায়ন, দক্ষ জনবল, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর তদারকি।

ডেসকোর সাম্প্রতিক উদ্যোগগুলো তাই কেবল নতুন কিছু প্রকল্পের তালিকা নয়; বরং রাজধানীর পরিবর্তিত বিদ্যুৎ চাহিদা ও প্রযুক্তিনির্ভর ভবিষ্যতের জন্য একটি আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থার ভিত্তি তৈরির প্রচেষ্টা।

১৯৪ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০















সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০


বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০