পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজা থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ!
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ৬:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
শরীয়তপুরের জাজিরায় পদ্মা সেতুর টোলপ্লাজার মতো গুরুত্বপূর্ণ কেপিআই (KPI) স্থাপনার লাইন থেকে ব্যক্তিমালিকানাধীন একটি রেস্টুরেন্টে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অন্তত ২২টি বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করে ‘ইলিশ পোলাও’ নামের ওই রেস্টুরেন্টে এই বিশেষ সংযোগ দেওয়া হয়। এমন স্পর্শকাতর বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে পদ্মা সেতুর নিরাপত্তা ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় ও জেলা পল্লি বিদ্যুৎ সমিতি সূত্রে জানা গেছে, পদ্মা সেতু ও আশপাশের এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য দুটি সাবস্টেশন ও মোট আটটি ফিডার চালু রয়েছে। এর মধ্যে জাজিরা প্রান্তের নাওডোবা ইউনিয়নের তস্তারকান্দি গ্রামে অবস্থিত ‘ইলিশ পোলাও’ নামের একটি রেস্টুরেন্টে আগে স্থানীয় ফিডার থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হতো। তবে লোডশেডিং এড়াতে এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ পেতে পাঁচ মাস আগে টোলপ্লাজার ভিআইপি ফিডার থেকে সেখানে সংযোগ নেওয়া হয়।
এই নতুন সংযোগটি দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন জায়গায় অন্তত ২২টি নতুন বৈদ্যুতিক খুঁটি স্থাপন করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, একটি অতি গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় কেপিআই স্থাপনার বিদ্যুৎ লাইনের সঙ্গে বাণিজ্যিক রেস্টুরেন্ট যুক্ত করায় বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। সেখানে কোনো কারিগরি ত্রুটি বা শর্ট সার্কিট হলে সরাসরি টোলপ্লাজার বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, পূর্বে তাদের এলাকার সাধারণ বিদ্যুৎ সংযোগটি সেনাবাহিনীর সার্ভিস এরিয়ার নিরাপদ ফিডারের আওতাভুক্ত ছিল। পরবর্তীতে সরকারি নির্দেশে তাদের সাধারণ লাইনে সরিয়ে দেওয়া হলেও, একটি ব্যক্তিগত রেস্টুরেন্টকে কীভাবে টোলপ্লাজার স্পর্শকাতর লাইন থেকে সংযোগ দেওয়া হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তারা।
তবে এ বিষয়ে রেস্টুরেন্ট মালিক ইকবাল হোসেনের দাবি, তিনি নিয়ম মেনেই বিদ্যুৎ সংযোগের আবেদন করেছিলেন। পর্যাপ্ত ভোল্টেজ ও লোড না থাকায় এবং ব্যবসার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ফি পরিশোধের পরই পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি তাকে এই সংযোগ দিয়েছে। তিনি এই লাইনের যাবতীয় খরচ নিজে বহন করেছেন বলেও জানান।
সেতু কর্তৃপক্ষের জায়গায় খুঁটি স্থাপন করার বিষয়ে পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাদ নিলয় জানান, নিয়মতান্ত্রিক ভাড়া পরিশোধের শর্তে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষকে সাময়িকভাবে জায়গা ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।
অন্যদিকে শরীয়তপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (কারিগরি) নাজমুল হাসান জানান, টোলপ্লাজার ফিডারে পর্যাপ্ত ধারণক্ষমতা থাকায় গ্রাহকের অর্থায়নে এই লাইন টানা হয়েছে। তবে সাধারণত জাতীয় বা জনগুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার লাইন থেকে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে সংযোগ দেওয়ার বিষয়টি পরিহার করা উচিত বলে তিনিও স্বীকার করেন।
১২১ বার পড়া হয়েছে