ধ্বংসের মুখে ময়মনসিংহের ঐতিহাসিক লোহার কুঠি ‘আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল’
বুধবার, ১৯ আগস্ট, ২০২৬ ৭:৫৯ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
ময়মনসিংহের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল এখন চরম অবহেলা ও সংস্কারের অভাবে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। ১৮৭৯ সালে নির্মিত এই ঐতিহ্যবাহী লোহার কুঠিটি যেকোনো সময় ধসে পড়ার আশঙ্কায় রয়েছে, যা দেশের পর্যটন শিল্পের জন্য এক বড় ক্ষতি। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ও মহাত্মা গান্ধীর স্মৃতিবিজড়িত এই অমূল্য পুরাকীর্তি রক্ষায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে ১৮৭৯ সালে ময়মনসিংহের জমিদার সূর্যকান্ত আচার্য চৌধুরী প্রায় ৪৫ হাজার টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করেন এই আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল। বার্মা থেকে আনা সেগুন কাঠ, লোহা ও ইস্পাত দিয়ে তৈরি এই ভবনটি তৎকালীন সময়ে ভূমিকম্প প্রতিরোধক হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। ১৪টি কক্ষ বিশিষ্ট এই রাজকীয় অতিথিশালাটি স্থানীয়ভাবে ‘লোহার কুঠি’ নামেও বেশ পরিচিত।
এই ঐতিহাসিক ভবনের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে উপমহাদেশের বহু খ্যাতিমান ব্যক্তির স্মৃতি। ১৯২৬ সালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মহাত্মা গান্ধী এই কুঠিতে অবস্থান করেছিলেন। এছাড়া লর্ড কার্জন, দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাস, নবাব স্যার সলিমুল্লাহ, কামাল পাশা ও নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর মতো বরেণ্য ব্যক্তিত্বরা এখানে পদধূলি দিয়েছেন।
বর্তমানে ঐতিহ্যবাহী এই স্থাপনাটির অবস্থা অত্যন্ত করুণ। রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবনের দেওয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, লোহার মূল্যবান অংশ চুরি হয়ে যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে। মাদকসেবীদের আখড়ায় পরিণত হওয়া এই ভবনটি যেকোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
স্থানীয় শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকেরা জানান, আলেকজান্দ্রার ক্যাসেল সম্পর্কে কোনো তথ্যবোর্ড না থাকায় নতুন প্রজন্ম এর গৌরবময় ইতিহাস জানতে পারছে না। এছাড়া ভবনটি জরাজীর্ণ হওয়ায় পাশে থাকা বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে সবসময় আতঙ্ক বিরাজ করে।
পুরাকীর্তি সুরক্ষা কমিটির পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরে এই স্থাপনাটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও প্রশাসনের তরফ থেকে কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ময়মনসিংহ বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক আফরোজা খান মিতা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিক এই স্থাপনাটি সংস্কারের লক্ষ্যে একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে এবং পর্যবেক্ষণ শেষে দ্রুত কাজ শুরু হবে।
১০৭ বার পড়া হয়েছে