৮ কোটির ল্যাব তালাবদ্ধ: সাতক্ষীরায় জনবল সংকটে হুমকিতে চিংড়ি শিল্প
শনিবার, ১৫ আগস্ট, ২০২৬ ৩:৪৬ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরায় দক্ষ জনবল ও টেকনিশিয়ানের অভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত চিংড়ি চাষ প্রদর্শনীর আধুনিক পিসিআর ল্যাব। ফলে ভাইরাসমুক্ত রেণু পরীক্ষা করতে না পেরে চরম লোকসানের মুখে পড়েছেন জেলার হাজার হাজার চিংড়ি চাষি।
সাতক্ষীরার ঐতিহ্যবাহী বাগদা চিংড়ি শিল্প রক্ষায় কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হয়েছিল আধুনিক পিসিআর ও কোয়ারেন্টাইন ল্যাব। তবে উদ্বোধনের পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও কেবল দক্ষ ও কারিগরি জনবলের অভাবে এল্লার চরের চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের এই পরীক্ষাগারটির কার্যক্রম বর্তমানে প্রায় থমকে রয়েছে। ফলে আধুনিক প্রযুক্তির কোনো সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় মৎস্য চাষিরা।
স্থানীয় মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রায় ৫৫ হাজার ঘেরে প্রতি মৌসুমে ৩০০ কোটিরও বেশি চিংড়ি রেণু ছাড়া হয়। ঘেরে ছাড়ার আগেই যেন চাষিরা পোনার রোগ-জীবাণু পরীক্ষা করে নিতে পারেন, সেই লক্ষ্যেই গত বছরের ডিসেম্বরে প্রায় ৮ কোটি টাকা ব্যয়ে দুটি ল্যাব স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু প্রয়োজনীয় টেকনিশিয়ানের অভাবে বৈজ্ঞানিক সরঞ্জামগুলো এখন ধুলোবালি জমে অকেজো হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
ভুক্তভোগী ঘের মালিকদের অভিযোগ, ল্যাবটি চালু না থাকায় তারা বাধ্য হয়ে খালি চোখে দেখেই বাজার থেকে পোনা কিনে ঘেরে ছাড়ছেন। এতে ভাইরাসবাহী দুর্বল পোনা ঘেরে চলে যাওয়ায় কিছুদিন পরেই মড়ক দেখা দিচ্ছে। একের পর এক ঘের উজাড় হয়ে যাওয়ায় বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা। অনেকেই এখন ঋণগ্রস্ত হয়ে চিংড়ি চাষ থেকে মুখ ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
সাতক্ষীরা চিংড়ি চাষ প্রদর্শনী খামারের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. শফিকুল ইসলাম জানান, ১৯৮৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এই খামারটি স্থানীয় মৎস্য অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি। আধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহারের অভাবে নষ্ট হতে বসায় তারা উদ্বিগ্ন। তবে প্রয়োজনীয় দক্ষ জনবল চেয়ে ইতিমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জেলা মৎস্য বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
জেলা চিংড়ি পোনা ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সভাপতি ডা. আবুল কালাম বাবলা বলেন, চিংড়ি বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি খাত। এই অমিত সম্ভাবনাময় শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে হলে পোনার ভাইরাস পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। তাই দ্রুত ল্যাবটি চালুর জন্য দক্ষ টেকনিশিয়ান নিয়োগের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চিংড়ি চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
১১২ বার পড়া হয়েছে