সাতক্ষীরার ডিসির বিরুদ্ধে অসদাচরণের অভিযোগ, সাংবাদিকদের প্রতিবাদ
শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ৯:৫১ অপরাহ্ন
শেয়ার করুন:
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাওসার আজিজের বিরুদ্ধে পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা, অসদাচরণ এবং সাংবাদিকদের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এই ঘটনার প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে সাংবাদিকরা ডিসির দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। তথ্য চাওয়া এবং বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতায় জেলা প্রশাসকের এমন বৈরি আচরণে জেলাজুড়ে গণমাধ্যমকর্মীদের মাঝে চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের নির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় জেলা প্রশাসক কাওসার আজিজের অপেশাদার আচরণ ও অসহযোগিতার বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কাসেমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় জেলার কর্মরত গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত হয়ে ডিসির বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ড ও দুর্ব্যবহারের বিবরণ তুলে ধরেন।
সভায় যমুনা টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আকরামুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি হত্যা মামলার জেলপলাতক আসামি কীভাবে ভূমি অফিসে জমি সংক্রান্ত মামলা পরিচালনা করছেন, সে বিষয়ে বক্তব্য জানতে গেলে জেলা প্রশাসক চরম ক্ষুব্ধ হন। তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানানোর পাশাপাশি ওই সাংবাদিকের চাকরি খাওয়া নিয়ে হুমকি দেন। একই সময়ে কক্ষে থাকা অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটসহ অন্য কর্মকর্তারা জোরপূর্বক ক্যামেরাপার্সনের ক্যামেরা চেক করেন।
সভায় অন্যান্য সাংবাদিকরাও ডিসি ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের হাতে হেনস্তার শিকার হওয়ার কথা জানান। বাংলাভিশনের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, বেসরকারি ক্লিনিকে অভিযানের তথ্য চাইতে গেলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে অসহযোগিতা করা হয় এবং পরে এ নিয়ে কথা বলতে গেলে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের উল্টো ভৎর্সনা করেন। ডিবিসি নিউজের এম বেলাল হোসাইন জানান, ফোনে সাংবাদিক পরিচয় পেলেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ডিসি কাওসার আজিজ।
প্রেসক্লাব সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, জেলার সার্বিক উন্নয়নে ও শাসনব্যবস্থায় সাংবাদিকদের ভূমিকা অপরিসীম। কিন্তু বর্তমান জেলা প্রশাসকের মতো অসহযোগিতাপূর্ণ আচরণ অতীতে কোনো ডিসির কাছ থেকে দেখা যায়নি। এ ধরনের আচরণ বর্তমান সরকারের সুশাসন ও জবাবদিহিতার অঙ্গীকারকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ ছাড়াও জেলা প্রশাসকের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি অবজ্ঞার অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ ও আহত পরিবারকে উপহার সামগ্রী দেওয়ার অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দকে যথাযথ সম্মান না দেওয়ায় জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও জেলা জামায়াতের আমীরসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ অনুষ্ঠান বর্জন করেছিলেন বলে জানা গেছে।
১২২ বার পড়া হয়েছে