সর্বশেষ

সারাদেশ

গোপালগঞ্জে পাটের বাম্পার ফলন, পাটকাঠিতেই চাষিদের বড় আয়

বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ
বাদল সাহা, গোপালগঞ্জ

শুক্রবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৬ ৮:০১ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
সোনালী আঁশ পাটের পাশাপাশি এখন রূপালী কাঠি তথা পাটকাঠি দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছে। গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় ফেলনা হিসেবে পরিচিত এই পাটকাঠি এখন আর অবহেলিত নয়, বরং কৃষকদের জন্য হয়ে উঠেছে অতিরিক্ত আয়ের লাভজনক উৎস। দেশে ও বিদেশে বহুমুখী শিল্পে এর চাহিদা বাড়ায় এবার বাম্পার ফলনের পর পাটকাঠি বিক্রি করে বাড়তি আয়ের স্বপ্ন বুনছেন স্থানীয় চাষিরা।

গোপালগঞ্জ জেলায় এ বছর পাটের বাম্পার ফলন হয়েছে। চাষিরা সোনালী আঁশ ঘরে তোলার পর এখন ব্যস্ত সময় পার করছেন পাটকাঠি বা রূপালী কাঠি শুকানোর কাজে। গ্রামীণ সড়কের দুই পাশ এবং বাড়ির উঠোনে সারি সারি সাজানো পাটকাঠি শুকিয়ে তা আটি বেঁধে ঘরের আঙিনায় স্তূপ করে রাখছেন তারা।

এক সময় এসব পাটকাঠি কেবল রান্নার জ্বালানি কিংবা পানের বরজ ও ঘরের বেড়া দেওয়ার কাজেই সীমাবদ্ধ ছিল। তবে প্রযুক্তি ও আধুনিক শিল্পে এর ব্যবহার বৃদ্ধি পাওয়ায় এখন আর এটি কোনো ফেলনা বস্তু নয়। স্থানীয় বাজারে প্রতি আটি পাটকাঠি বেশ ভালো দামে বিক্রি হচ্ছে, যা পাটের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া চাষিদের ক্ষতি পুষিয়ে দিচ্ছে।

মুকসুদপুর উপজেলার চারকোলা এলাকায় গড়ে ওঠা একটি বিশেষ মিলে এখন বাণিজ্যিকভাবে পাটকাঠি পুড়িয়ে ছাই বা কার্বন তৈরি করা হচ্ছে। উৎপাদিত এই কার্বন বিদেশে রপ্তানি করার পাশাপাশি কার্বন পেপার, কম্পিউটারের প্রিন্টার ও ফটোকপিয়ারের কালি, আতশবাজি, মোবাইল ফোনের ব্যাটারি, প্রসাধনী সামগ্রী এবং জীবনরক্ষাকারী ওষুধসহ বিভিন্ন প্রসাধন ও দাঁতের মাজন তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্থানীয় চাষিদের মতে, পূর্বে যে পাটকাঠি অবহেলায় নষ্ট হতো, বর্তমানে বিশ্ববাজারে এর বিপুল চাহিদা থাকায় কৃষকেরা একে 'সোনার হরিণ' হিসেবে আখ্যায়িত করছেন। সঠিক সময়ে সংরক্ষণ ও বিক্রি করতে পারলে এই কাঠি থেকে বড় অঙ্কের লাভ করা সম্ভব হচ্ছে।

কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে মুকসুদপুর উপজেলায় ১০ হাজার ১৯২ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হওয়ার পাশাপাশি পাটকাঠির এ বাণিজ্য চাষিদের মুখে নতুন হাসি ফুটিয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, সোনালী আঁশের পাশাপাশি এই রূপালী কাঠি স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে।

১১৫ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
সারাদেশ নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন