সর্বশেষ

জাতীয়

কমেছে মরিচের সরবরাহ, ঢাকায় দাম বেড়ে কেজি ২৫০

স্টাফ রিপোর্টার
স্টাফ রিপোর্টার

শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২৬ ৬:১০ অপরাহ্ন

শেয়ার করুন:
টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে দিনাজপুরসহ আশপাশের এলাকায় মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমেছে। এর ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কাঁচামরিচের দাম প্রতি কেজিতে প্রায় ১৩০ টাকা বেড়ে বর্তমানে ২৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে কয়েকটি নিত্যপ্রয়োজনীয় সবজির দামও বেড়েছে, যা ভোক্তাদের বাড়তি চাপের মুখে ফেলেছে।
মরিচের বাজার (সংগৃহীত)

টানা বৃষ্টির কারণে দিনাজপুরের বিভিন্ন এলাকায় মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় স্থানীয় বাজারগুলোতে কাঁচামরিচের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এক সপ্তাহ আগেও প্রতি কেজি কাঁচামরিচ ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা ২৫০ টাকায় পৌঁছেছে।

বুধবার সকালে দিনাজপুর শহরের বাহাদুর বাজার, সুইহারী বাজার, রামনগর বাজার, উপশহর বাজার ও পুলহাট বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। একই ধরনের তথ্য পাওয়া গেছে চিরিরবন্দর, বিরল, বীরগঞ্জ, বিরামপুর, হাকিমপুর, ফুলবাড়ী ও নবাবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন বাজার থেকেও।

ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, প্রায় এক সপ্তাহ ধরে দিনাজপুরসহ আশপাশের জেলাগুলোতে টানা বৃষ্টিতে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি পর্যায় থেকেই বেশি দামে মরিচ কিনতে হচ্ছে, যার প্রভাব খুচরা বাজারেও পড়েছে।

বাহাদুর বাজারের ব্যবসায়ী সহরাফ আলী বলেন, বাজারে মরিচের সরবরাহ কম থাকায় বেশি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। তিনি জানান, ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। তবে আমদানিকৃত মরিচ স্থলবন্দরে পৌঁছাতে আরও কয়েক দিন লাগতে পারে।

ব্যবসায়ীদের দাবি, আমদানিকৃত কাঁচামরিচের বড় অংশ রাজধানী ও দেশের বড় বড় পাইকারি বাজারে চলে যায়। ফলে দিনাজপুরের স্থানীয় বাজারে এর প্রভাব খুব একটা দেখা যায় না।

বাজারে কেনাকাটা করতে আসা ভোক্তারা বলছেন, কাঁচামরিচের পাশাপাশি অন্যান্য সবজির দামও বেড়েছে। বর্তমানে পটোল প্রতি কেজি ৫০ টাকা, ঢ্যাঁড়স ৫০ টাকা এবং শসা ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এতে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের সংসার চালাতে অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।

বাহাদুর বাজারে কেনাকাটা করতে আসা আতাউর রহমান বলেন, আগে এক পোয়া কাঁচামরিচ কিনলেও এখন ২৫ টাকায় মাত্র ১০০ গ্রাম কিনতে হচ্ছে। এভাবে দাম বাড়তে থাকলে সাধারণ মানুষের জন্য সংসার চালানো আরও কঠিন হয়ে পড়বে।

কৃষকেরাও বলছেন, অতিরিক্ত বৃষ্টি ও আবহাওয়ার বিরূপ প্রভাবে মরিচগাছের পাতা নষ্ট হয়ে যাচ্ছে এবং গাছ মারা যাচ্ছে। ফলে উৎপাদন কমে গেছে।

ফুলবাড়ী উপজেলার মাদিরাহাট গ্রামের কৃষক জনাব আলী জানান, ১০ কাঠা জমিতে মরিচের চাষ করেছিলেন। কিন্তু গত ১৫ দিনে মাত্র ২০ কেজি মরিচ তুলতে পেরেছেন, যা প্রত্যাশার তুলনায় অনেক কম।

সদর উপজেলার উলিপুর গ্রামের কৃষক জুয়েল ইসলাম বলেন, ৫০ শতক জমিতে মরিচ চাষে প্রায় এক লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে। কিন্তু বৃষ্টির কারণে গাছ নষ্ট হওয়ায় ফলন কমেছে। এক হাজার গাছ থেকে মাত্র ৪৪ কেজি মরিচ সংগ্রহ করে পাইকারি বাজারে ২১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করেছেন।

দিনাজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক মো. আনিছুজ্জামান জানান, চলতি খরিফ-১ মৌসুমে জেলায় ৬৬৮ হেক্টর জমিতে মরিচের আবাদ হয়েছে। সম্ভাব্য উৎপাদন ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৩২ টন। পাশাপাশি খরিফ-২ মৌসুমেও ১০৩ হেক্টর জমিতে মরিচ চাষের প্রস্তুতি চলছে।

দিনাজপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের সিনিয়র কর্মকর্তা রবিউল হাসান বলেন, টানা বৃষ্টির কারণে মরিচের উৎপাদন কমে যাওয়ায় বাজারে সরবরাহে ঘাটতি তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতি না হলে দাম কিছুদিন আরও ঊর্ধ্বমুখী থাকতে পারে।

১৪৯ বার পড়া হয়েছে

শেয়ার করুন:

মন্তব্য

(0)

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন
এলাকার খবর

বিজ্ঞাপন

৩০০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন














সর্বশেষ সব খবর
জাতীয় নিয়ে আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন

২৫০ x ২৫০

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন
৩২০ x ৫০
বিজ্ঞাপন