গোয়ালন্দে সরকারি খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে প্রশাসনের অভিযান
বৃহস্পতিবার, ২ জুলাই, ২০২৬ ৪:৪৯ পূর্বাহ্ন
শেয়ার করুন:
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নে সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত একটি মুরগির খামারের আংশিক অংশ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন। খাল খনন কার্যক্রমে বাধা এবং সরকারি জমি দখলের অভিযোগে পরিচালিত এ অভিযানে খামারের মালিককে জীবিত মুরগি সরিয়ে নেওয়ার জন্য মানবিক কারণে সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।
রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের মরা পদ্মা এলাকায় সরকারি খালের ওপর অবৈধভাবে নির্মিত একটি মুরগির খামারের আংশিক অংশ উচ্ছেদ করেছে উপজেলা প্রশাসন।
বুধবার (১ জুলাই) দুপুর ১টার দিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাথী দাসের নেতৃত্বে প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে সরকারি জমির ওপর নির্মিত খামারের অংশ ভেঙে ফেলা হয়। তবে খামারে জীবিত মুরগি থাকায় মানবিক দিক বিবেচনায় মালিককে সেগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়।
অভিযানে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুনতাসির হাসান খান, গোয়ালন্দঘাট থানার ওসি (তদন্ত) রাশেদুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সৈয়দ রায়হানুল হায়দার, উপজেলা প্রকৌশলী ফয়সাল জাহাঙ্গীর স্বপ্নীল, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আবু বকর, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবলু, উজানচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলজার হোসেন মৃধাসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
প্রশাসন জানায়, গত ১২ মে উজানচর ইউনিয়নের মরা পদ্মা এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। গোয়ালন্দ নাজিরুদ্দিন পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে বিশ্বনাথপাড়া বেড়িবাঁধ পর্যন্ত প্রায় ১ দশমিক ৬ কিলোমিটার খাল খননের জন্য ২১ লাখ ৬৭ হাজার টাকা ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীন ইজিপিপি কর্মসূচির আওতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
খাল খনন প্রকল্প শুরু হওয়ার পর থেকেই সরকারি খালের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে সংশ্লিষ্টদের একাধিকবার মৌখিকভাবে সতর্ক করা হয়। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও স্থাপনা অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। নির্দেশনা অনুসরণ না করায় শেষ পর্যন্ত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয় বলে প্রশাসন জানিয়েছে।
খামারের মালিক হাবিবুর রহমান বলেন, উপজেলা প্রশাসন একাধিকবার তাদের সতর্ক করেছিল। তিনি জানান, হ্যাচারিটি ১০ থেকে ১২ জনের যৌথ মালিকানাধীন। তাঁর দাবি, আরএস রেকর্ড অনুযায়ী জমিটি তাদের হলেও বিএস রেকর্ডে এটি সরকারি জমি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাথী দাস বলেন, সরকারি খাল খনন কার্যক্রম চলমান রয়েছে। খালের ওপর নির্মিত স্থাপনাটি খননকাজে বাধা সৃষ্টি করছিল। পাশাপাশি সরকারি জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ বেআইনি। একাধিকবার সতর্ক করার পরও স্থাপনা সরিয়ে না নেওয়ায় আংশিক উচ্ছেদ করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে খামারের মালিক মুরগি সরিয়ে সরকারি জমি সম্পূর্ণভাবে দখলমুক্ত করবেন।
১২৮ বার পড়া হয়েছে